Travel Tips: বিসর্জনের অন্যরকম দৃশ্য দেখতে হলে একবার আসতেই হবে টাকিতে। কলকাতা থেকে মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই সীমান্তবর্তী শহরটি ছোট ছুটি কাটানোর জন্য আদর্শ। চারচাকা নিয়ে একদিনে ঘুরে আসাই যায়, আর দেখা যায় ইছামতীর বুকে দুই বাংলার মিলন।
Travel Tips: পুজো শেষ মানেই মন খারাপ। ঢাকের বোল থেমে যায়, আলো নিভে যায়। কিন্তু বিসর্জনের বিষাদও যে এত সুন্দর হতে পারে, তা টাকি না গেলে বুঝবেন না। কলকাতার ভিড়, বাবুঘাটের হুড়োহুড়ি থেকে দূরে, এক শান্ত নদীর বুকে যখন দুই বাংলার দুর্গা একসঙ্গে ভাসান হয়, তখন চোখে জল আর মুখে হাসি দুটোই একসঙ্গে চলে আসে। তাই এবার দশমীতে একটু অন্যরকম প্ল্যান করুন। চারচাকা নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন টাকির উদ্দেশে। কলকাতা থেকে মাত্র ২-২.৫ ঘণ্টার রাস্তা, আর সারাদিনে ঘুরে আসা যায় আরামসে।
কেন যাবেন টাকি?
দুর্গাপুজোর বিসর্জন তো অনেক দেখেছেন, কিন্তু দুই বাংলার বিসর্জন একসঙ্গে দেখেছেন? ইছামতী নদীর বুকে এই দৃশ্য দেখা যায় শুধু টাকিতেই।
নদীর একপাড়ে ভারতের টাকি, অন্যপাড়ে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা। দশমীর দিন দুই দেশের প্রতিমা নৌকায় করে মাঝনদীতে আসে। নদীর মাঝখানেই হয় যৌথ বিসর্জন, দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে চলে শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়। বিএসএফ-এর কড়া নিরাপত্তায় এই মিলনমেলাই টাকির ইউএসপি। এই দৃশ্য দেখতে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান।
একদিনে কীভাবে ঘুরবেন? চারচাকায় রোড ট্রিপ প্ল্যান:
যাওয়ার রাস্তা: কলকাতা থেকে টাকি মাত্র ৭৫-৮০ কিমি। বাসন্তী হাইওয়ে ধরে মালঞ্চ হয়ে সোজা টাকি। নিজের গাড়িতে ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা লাগে। সকাল ৭টায় বেরোলে ৯.৩০টার মধ্যে পৌঁছে যাবেন। রাস্তা এখন বেশ ভালো।
সারাদিনের প্ল্যান:
- সকাল ১০টা - ইছামতীতে নৌকাবিহার: প্রথমেই টাকি রাজবাড়ি ঘাট থেকে নৌকা নিন। ঘণ্টায় ৩০০-৪০০ টাকায় নৌকা পাবেন। মাঝনদী থেকে দেখবেন জিরো পয়েন্ট, বাংলাদেশের বর্ডার।
- দুপুর ১২টা - টাকির দর্শনীয় স্থান: নৌকা থেকে নেমে টোটো নিয়ে নিন (৩০০ টাকায় সব ঘুরিয়ে দেয়)। দেখে নিন - ৪০০ বছরের পুরনো টাকি রাজবাড়ি, জোড়া শিব মন্দির, প্রাক্তন সেনাপ্রধান শঙ্কর রায়চৌধুরীর বাড়ি যেখানে ‘গয়নার বাক্স’ শুটিং হয়েছিল, কুলেশ্বরী মন্দির।
- দুপুর ২টো - লাঞ্চ: টাকি পৌরসভার গেস্ট হাউস বা বিসর্জন হোটেলে ভেটকি, পারশে, চিংড়ির লাঞ্চ সেরে নিন।
- বিকেল ৪টে - বিসর্জনের প্রস্তুতি ও সূর্যাস্ত: বিসর্জনের দিন গেলে বিকেল থেকে ঘাটে ভিড় শুরু হয়। আর অন্য দিন গেলে ইছামতীর পাড়ে বসে সূর্যাস্ত দেখুন, অসাধারণ লাগবে।
- সন্ধে ৬টা - ফেরার পালা: সন্ধের মধ্যে বেরিয়ে পড়লে রাত ৮.৩০-৯টার মধ্যে কলকাতা।
কিছু জরুরি টিপস:
১. বিসর্জনের দিন ভীষণ ভিড় হয়, তাই সকাল সকাল পৌঁছনোর চেষ্টা করুন। আগে থেকে হোটেল বুক করে গেলে ভালো।
২. বর্ডার এলাকা, তাই আধার কার্ড সঙ্গে রাখুন। নদীতে ছবি তোলার সময় বর্ডারের দিকে বেশি জুম করবেন না, বিএসএফ আপত্তি করতে পারে।
৩. নৌকায় লাইফ জ্যাকেট পরে নেবেন, বিশেষ করে বাচ্চা থাকলে।
৪. নিজের গাড়ি নিয়ে গেলে টাকি পৌরসভার পার্কিংয়ে গাড়ি রাখুন।
এবার দশমীতে একঘেয়ে বাবুঘাট নয়, চলুন টাকি - যেখানে বিসর্জনেও মিশে থাকে দুই বাংলার আবেগ।









