পুজোর আগে বাড়ি পরিষ্কার তো করছেন, কিন্তু বাস্তু মতে শুধু ধুলো গেলেই হবে না, নেগেটিভ এনার্জিও দূর করতে হবে। ঘর মোছার জলে সামান্য এই জিনিসটি মেশালেই সংসারে ফিরবে শান্তি ও সমৃদ্ধি।
দুর্গাপুজোর আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি। ইতিমধ্যেই বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয়ে গেছে ঝাড়পোঁছ, আলমারি গোছানো, জানলা-দরজা পরিষ্কার। কিন্তু আপনি কি জানেন, শুধু চোখে দেখা ধুলো-ময়লা পরিষ্কার করলেই বাড়ি শুদ্ধ হয় না? বাস্তুশাস্ত্র বলছে, আমাদের অজান্তেই বাড়ির কোণে কোণে জমে থাকে অদৃশ্য নেগেটিভ এনার্জি বা নেতিবাচক শক্তি। যার ফলে সংসারে কারণ ছাড়াই অশান্তি, কাজে বারবার বাধা, আর্থিক ক্ষতি, ঘুমের সমস্যা, এমনকি সদস্যদের মধ্যে মনোমালিন্য লেগেই থাকে।
পুজোর আগে মা-কে ঘরে আনার আগে তাই বাড়ি থেকে এই নেগেটিভ এনার্জি দূর করা সবচেয়ে জরুরি। আর এর জন্য কোনও দামি পাথর, যন্ত্র বা পুজোর দরকার নেই। আপনার রান্নাঘরের অতি সাধারণ একটা জিনিসই এই কাজটা ম্যাজিকের মতো করে দেবে - তা হল লবণ বা নুন।
*কেন লবণই নেগেটিভ এনার্জি দূর করে?*
বাস্তু এবং প্রাচীন শাস্ত্রমতে, সমুদ্র লবণ বা সৈন্ধব লবণ অত্যন্ত শুদ্ধ এবং শক্তিশালী এনার্জি শোষক। সমুদ্রের জল যেমন সমস্ত কিছুকে শুদ্ধ করে, তেমনই লবণ জল বাড়ির বাতাসে ভাসমান নেতিবাচক শক্তি, রোগ-জীবাণু এবং বাস্তু দোষকে টেনে নেয়। বৈজ্ঞানিকভাবেও লবণ জল দিয়ে ঘর মুছলে ব্যাকটেরিয়া অনেক কমে যায় এবং মেঝে দীর্ঘক্ষণ জীবাণুমুক্ত থাকে।
*পুজোর আগে কীভাবে করবেন এই বিশেষ টোটকা?*
এক বালতি কুসুম গরম পরিষ্কার জলে ১ চামচ মোটা সমুদ্র লবণ বা সৈন্ধব লবণ ভালো করে মিশিয়ে নিন। চাইলে এর কার্যকারিতা আরও বাড়াতে এর সঙ্গে ৪-৫ ফোঁটা পাতিলেবুর রস এবং এক চিমটে কর্পূরের গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে পারেন। লেবু শুদ্ধতার প্রতীক আর কর্পূরের গন্ধে পজিটিভ এনার্জি আকৃষ্ট হয়।
এবার সেই জল দিয়ে পুরো বাড়ি ভালো করে মুছুন। বিশেষ করে বাড়ির কোণা, দরজার পেছন, খাটের তলা - যেখানে আলো-বাতাস কম পৌঁছায়, সেখানে একটু বেশি সময় দিয়ে মুছবেন।
*মনে রাখতে হবে ৩টি জরুরি বাস্তু নিয়ম:*
*১. সঠিক সময় মেনে চলুন:* বাস্তু মতে, ঘর মোছার সবচেয়ে শুভ সময় হল সূর্যোদয়ের পর থেকে দুপুরের মধ্যে। এই সময় পজিটিভ এনার্জি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। ভুলেও সূর্যাস্তের পর বা সন্ধ্যাবেলায় নুন জল দিয়ে ঘর মুছবেন না। এতে বাড়ির লক্ষ্মী বেরিয়ে যায় এবং আর্থিক ক্ষতি হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
*২. মোছার দিক ঠিক রাখুন:* এলোমেলোভাবে ঘর মুছবেন না। সবসময় বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণ অর্থাৎ ঈশান কোণ থেকে মোছা শুরু করুন এবং দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ বা সদর দরজার দিকে গিয়ে শেষ করুন। এতে শুভ শক্তি ঘরের ভেতরে প্রবাহিত হয় এবং অশুভ শক্তি দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায়।
*৩. বার ও জল ফেলার নিয়ম:* সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার এইভাবে নুন জল দিয়ে ঘর মুছলেই যথেষ্ট। তবে বাস্তু মতে বৃহস্পতিবার ও রবিবার নুন দিয়ে ঘর মোছা নিষিদ্ধ। বৃহস্পতিবার মা লক্ষ্মী ও বৃহস্পতি গ্রহের বার, এই দিন নুন ব্যবহার করলে আর্থিক সমৃদ্ধি কমে। এই দুদিন শুধু পরিষ্কার জল দিয়ে মুছুন। আর ঘর মোছা হয়ে গেলে নোংরা জল কখনই ঘরের ভেতরে রাখবেন না, সঙ্গে সঙ্গে বাইরে ফেলে দিন।
*বোনাস টিপস:* ঘর মোছার পাশাপাশি পুজোর আগে একটি কাঁচের বাটিতে খানিকটা সৈন্ধব লবণ নিয়ে বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে রেখে দিন। প্রতি ১৫ দিন অন্তর লবণটি পাল্টে ফেলুন। এটি বাড়ির সমস্ত নেগেটিভিটি শুষে নেবে।
বিশ্বাস করা হয়, পুজোর আগে এই ছোট্ট কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী টোটকাটি করলে শুধু ঘরই ঝকঝকে হবে না, সংসারে ফিরে আসবে সুখ, শান্তি, সুস্বাস্থ্য এবং মা দুর্গার আশীর্বাদে সমস্ত বাধা কেটে যাবে।


