থাইরয়েড হরমোন তৈরি এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে আয়োডিন অত্যন্ত জরুরি। এর অভাবে শিশুদের গয়টার, শারীরিক বৃদ্ধি থমকে যাওয়া এবং বুদ্ধিমত্তা কমে যাওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।

আমাদের শরীরে থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য আয়োডিন খুব জরুরি একটা খনিজ উপাদান। এই থাইরয়েড হরমোন শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকীয় প্রক্রিয়া (খাবার থেকে শক্তি তৈরির কাজ) নিয়ন্ত্রণ করে। এনার্জি লেভেল ঠিক রাখা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে এর বড় ভূমিকা রয়েছে। তাছাড়া, বাচ্চাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিকাশ এবং মস্তিষ্কের সঠিক কাজের জন্য আয়োডিন ভীষণ দরকার।

দরকারি মাত্রায় এই খনিজ উপাদান শরীরে না পৌঁছালে আয়োডিনের ঘাটতি দেখা দেয়। আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক খাবার এবং দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারে প্রচুর আয়োডিন থাকে। আমাদের শরীরের প্রতিদিন অল্প পরিমাণে হলেও আয়োডিন দরকার। পর্যাপ্ত আয়োডিন না পেলে থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন তৈরি করতে বেশ কষ্ট হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে ক্লান্তি থেকে শুরু করে বাচ্চাদের বিকাশে নানা রকম জটিলতা তৈরি হয়।

শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের ওপর এই পুষ্টির অভাবের প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। বাচ্চাদের শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি থাকলে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যায়, যাকে গয়টার বলা হয়। এছাড়া শারীরিক বৃদ্ধি থমকে যাওয়া, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া এবং মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ (IQ) স্থায়ীভাবে কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পরিস্থিতি খুব খারাপ হলে এটি 'ক্রেটিনিজম' (জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজম) নামের একটি জটিল রোগের দিকে মোড় নিতে পারে। আমরা অনেক সময় অতিরিক্ত ক্লান্তি বা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে না পারার মতো সমস্যাগুলোকে বয়ঃসন্ধিকালের সাধারণ সমস্যা ভেবে ভুল করি। তাই বাবা-মায়েদের এই লক্ষণগুলোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।

বাচ্চাদের শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি থাকলে যে লক্ষণগুলো দেখা যায়:

১. শারীরিক বৃদ্ধিতে দেরি হওয়া

২. থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া (গয়টার)

৩. অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং দুর্বলতা

৪. চিন্তাশক্তি ও পড়াশোনায় সমস্যা

৫. ত্বক, চুল এবং নখে পরিবর্তন

৬. ওজন এবং মেটাবলিজমে পরিবর্তন

৭. মেজাজ এবং আচরণে পরিবর্তন