গ্যাংটক, পেলিং, সিল্করুটের ভিড়ে হাঁপিয়ে গেছেন? সিকিমের আসল শান্ত রূপ দেখতে চাইলে এবার পশ্চিম সিকিমের তিনটি নির্জন গ্রামে চলুন - ইয়োকসোম, ছায়াতাল আর রিনচেনপং। ইতিহাস, পবিত্র হ্রদ আর কাঞ্চনজঙ্ঘার ভিউ - সব একসঙ্গে।

গ্যাংটক, পেলিং, সিল্করুটের ভিড়ে হাঁপিয়ে গেছেন? সিকিমের আসল শান্ত রূপ দেখতে চাইলে এবার পশ্চিম সিকিমের তিনটি নির্জন গ্রামে চলুন - ইয়োকসোম, ছায়াতাল আর রিনচেনপং। ইতিহাস, পবিত্র হ্রদ আর কাঞ্চনজঙ্ঘার ভিউ - সব একসঙ্গে। যদি পাহাড়ে একটু নিরিবিলিতে দু'দিন কাটাতে চান, যেখানে সকালে ঘুম ভাঙবে পাখির ডাকে আর জানালা খুললেই কাঞ্চনজঙ্ঘা, তাহলে আপনার জন্য আদর্শ পশ্চিম সিকিমের এই তিন গ্রাম।

১. ইয়োকসোম (Yoksom) - যেখানে সিকিমের জন্ম হয়েছিল

এটাই ছিল সিকিমের প্রথম রাজধানী। নামের অর্থই হল 'তিন জ্ঞানী লামার মিলনস্থল'। ১৬৪২ সালে তিব্বত থেকে আসা তিন লামা - লাটসুন চেম্বো, কাথক কুন্তু জাংপো এবং নাদাক সেমপা চেম্বো এখানেই ফুন্টসোগ নামগিয়ালকে সিকিমের প্রথম চোগিয়াল বা ধর্মরাজা হিসেবে অভিষেক করেন। সেই রাজ্যাভিষেকের পাথরের সিংহাসন - নোরবুগাং চোর্তেন আজও আছে। এখানেই আছে সিকিমের সবচেয়ে পুরনো দুবদি মনাস্ট্রি (১৭০১ সালে তৈরি)। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫৮৪০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই গ্রাম থেকেই শুরু হয় বিখ্যাত জোংরি ও গোয়েচা-লা ট্রেক। এটি কাঞ্চনজঙ্ঘা ন্যাশনাল পার্কের গেটওয়ে।

২. ছায়াতাল - আয়নার মতো পবিত্র হ্রদের গ্রাম

ইয়োকসোম থেকে মাত্র ৮ কিমি দূরে, হি-পাতালের কাছে অবস্থিত এই ছোট্ট গ্রাম। এর মূল আকর্ষণ হল ছায়াতাল লেক। চারদিকে পাইন বন আর রঙিন প্রেয়ার ফ্ল্যাগে ঘেরা এই হ্রদ স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। জলের রঙ পান্না সবুজ, এতটাই স্বচ্ছ যে আকাশের ছায়া পড়ে, তাই নাম ছায়াতাল। এখানে কোনো হোটেলের ভিড় নেই, আছে সুন্দর লেক ভিউ হোমস্টে। সারাদিন হ্রদের পাশে বসে বই পড়া আর পাখির ডাক শোনাই এখানকার প্রধান কাজ।

৩. রিনচেনপং (Rinchenpong) - বারান্দা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা

কালুকের খুব কাছে অবস্থিত এই হেরিটেজ গ্রাম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫৫৭৬ ফুট উঁচুতে। এখানে আছে ১৭৩০ সালে তৈরি রিনচেনপং মনাস্ট্রি এবং ব্রিটিশ আমলের বাংলো। এখানকার আসল ম্যাজিক হল পুরনো মনাস্ট্রির ধ্বংসাবশেষ - রিনচেনপং গুম্ফা। প্রায় ৩০ মিনিট ট্রেক করে ওপরে উঠলে সেখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা, কাব্রু, রাথোং, পান্ডিমের ৩৬০ ডিগ্রি প্যানোরামিক ভিউ পাওয়া যায়।

কীভাবে যাবেন

এনজেপি/শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি গাড়িতে প্রথমে রিনচেনপং (প্রায় ১৩০ কিমি, ৬ ঘণ্টা), সেখানে এক রাত। পরদিন ছায়াতাল হয়ে ইয়োকসোম। ইয়োকসোমে অন্তত দু'রাত থাকুন। থাকা-খাওয়া জনপ্রতি ১২০০-১৮০০ টাকায় হোমস্টেতে হয়ে যাবে। যাওয়ার সেরা সময় অক্টোবর থেকে এপ্রিল।