শাস্ত্রমতে বছরের প্রথম দিনটা যে কোনও কাজের জন্যই শুভ। নতুন কিছু শুরু করতে হলে এই দিনটি নিশ্চিন্তে নির্বাচন করুন। কিংবা পরে সময় হলে করবেন, এমন কাজের পরিকল্পনা করার জন্যও এই দিনটিকে শুভ মনে করা হয়।
পয়লা বৈশাখে কুনজর বা নেতিবাচক শক্তি দূর করতে বাড়িতে গঙ্গা জল, আম/অশোক পাতার তোরণ, লক্ষ্মীর ভাঁড়, বা নতুন চারাগাছ আনা অত্যন্ত শুভ। ভাঙা কাচ, পুরনো ঝাড়ু, বন্ধ ঘড়ি বা শুকনো ফুল অশুভ মনে করে বের করে দেওয়া জরুরি। এই ব্যবস্থাগুলো ঘরে সুখ, সমৃদ্ধি এবং বছরভর অর্থলাভ নিশ্চিত করে।
পয়লা বৈশাখে বাড়িতে আনুন (শুভ জিনিস):
* লক্ষ্মীর ভাঁড়: নববর্ষের সকালে একটি নতুন মাটির লক্ষ্মীর ভাঁড় স্থাপন করে তাতে প্রতিদিন সামান্য অর্থ রাখা শুভ, এটি অর্থকষ্ট দূর করে ।
* আম বা অশোক পাতার তোরণ: প্রধান দরজায় আম বা অশোক পাতার মালা টাঙানো নেতিবাচক শক্তি বা কুনজর থেকে বাড়িকে রক্ষা করে ।
* নতুন গাছ বা চারা: বাড়িতে নতুন কোনো গাছ, বিশেষ করে তুলসী বা শুভ গাছ লাগানো ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি করে।
* গঙ্গা জল: সারা বাড়িতে গঙ্গা জল ছিটিয়ে দিলে নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং পবিত্রতা বজায় থাকে।
* নতুন ডায়েরি বা ক্যালেন্ডার: নতুন বছরের শুরু হিসেবে নতুন ক্যালেন্ডার বা ব্যবসার জন্য হালখাতার খাতা বাড়িতে আনা ভালো।
দূর করুন বা সরিয়ে ফেলুন (অশুভ জিনিস):
* ভাঙা কাচ বা আয়না: ভাঙা আয়না বা কাচের জিনিস বাড়িতে থাকলে চরম অশুভ প্রভাব পড়ে, যা অবিলম্বে সরানো উচিত।
* বন্ধ ঘড়ি: বাড়ির দেওয়ালে বন্ধ ঘড়ি থাকা মানেই উন্নতির পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, এটি কুনজর বা নেতিবাচক শক্তি টানে।
* পুরনো ঝাড়ু: পুরোনো বা ভাঙা ঝাড়ু বাড়িতে থাকলে লক্ষ্মীছাড়া ভাব আসে, নতুন বছরের আগে এটি ফেলে দেওয়া জরুরি।
* শুকনো ফুল বা পাতা: ঘরের কোণে বা টবে জমে থাকা শুকনো ফুল ও পাতা নেতিবাচক শক্তির আধার।
* কাটা বা ছেঁড়া বই: ছেঁড়া বই বা খাতা ঘরে থাকলে বাস্তুদোষ তৈরি হয়।
কুনজর থেকে বাঁচতে বিশেষ টিপস:
নববর্ষের সকালে ঘর পরিষ্কার করে সুগন্ধি ধুনো বা ধূপ জ্বালিয়ে দিন। প্রধান দরজার সামনে আলপনা দেওয়া এবং সিঁদুর দিয়ে ‘ওঁ’ বা ‘স্বস্তিক’ চিহ্ন আঁকা কুনজর থেকে বাচতে সাহায্য করে।
