চাকরিসূত্রে অন্য শহরে থাকতে গেলে বাড়ি ভাড়া নিতেই হয়। আর ভাড়া নিতে গেলেই বাড়িওয়ালা ১১ মাসের এগ্রিমেন্ট করান। কখনও ১০ মাস বা ১২ মাস নয়। কেন এই ১১ মাসের নিয়ম? এর পিছনে আছে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি কারণ, যা না জানলে বিপদে পড়তে পারেন ভাড়াটে ও বাড়িওয়ালা দুজনেই।

কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই - যেখানেই বাড়ি ভাড়া নিতে যান না কেন, চুক্তিপত্রে সময় লেখা থাকে ১১ মাস। মনে প্রশ্ন জাগে, এক বছরের চুক্তি করলেই তো হয়, ১১ মাস কেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ভারতের রেজিস্ট্রেশন আইনে।

আসল আইনি কারণ:

ভারতের Registration Act, 1908 অনুযায়ী, কোনও সম্পত্তির ভাড়া চুক্তি যদি ১২ মাস বা তার বেশি সময়ের জন্য হয়, তাহলে সেই চুক্তি বাধ্যতামূলকভাবে রেজিস্ট্রি করতে হয়।

রেজিস্ট্রি মানে কী? ১. সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে চুক্তি রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। ২. এর জন্য মোটা টাকা স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হয়। যা সাধারণত কয়েক মাসের ভাড়ার সমান হতে পারে। ৩. অনেক আইনি ঝামেলা ও কাগজপত্রের কাজ থাকে।

এই ঝামেলা এড়াতেই বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটে উভয়েই ১১ মাসের চুক্তি করেন। ১১ মাসের চুক্তি রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক নয়। শুধু ১০০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে নোটারি করলেই হয়ে যায়। এতে খরচ ও সময় দুটোই বাঁচে।

আরও একটি কারণ:

Rent Control Act - যদি চুক্তি ১২ মাস বা তার বেশি হয়, তাহলে অনেক রাজ্যে ভাড়াটের ওপর ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন প্রযোজ্য হয়। তখন বাড়িওয়ালা চাইলেই ভাড়া বাড়াতে বা ভাড়াটেকে তুলতে পারেন না। কোর্টের ঝামেলা আসতে পারে। ১১ মাসের চুক্তি হলে প্রতি ১১ মাস অন্তর চুক্তি রিনিউ করা যায় এবং নতুন শর্তে ভাড়া বাড়ানো যায়।

তাই ১০ মাস নয়, ১১ মাস করা হয়, কারণ ১১ মাস হল রেজিস্ট্রেশন ছাড়া করা যায় এমন সর্বোচ্চ সময়সীমা। এতে বাড়িওয়ালারও সুবিধা, ভাড়াটেরও খরচ কম।