অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট বা মিশো থেকে প্রোডাক্ট অর্ডার করলে যে বক্সে আসে, তা প্রায় সবসময়ই বাদামি রঙের হয়। কখনও ভেবে দেখেছেন কেন সাদা বা রঙিন নয়? এর পিছনে রয়েছে খরচ, পরিবেশ এবং বিজ্ঞানের এক চমকপ্রদ কারণ।
আজকাল প্রায় রোজই আমাদের বাড়িতে অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, মিশোর ডেলিভারি বক্স আসে। খেয়াল করে দেখবেন, ৯০% বক্সের রংই কিন্তু বাদামি। কখনও ভেবেছেন, কোম্পানিগুলো চাইলেই তো সুন্দর সাদা বা নীল, লাল রঙের বক্স ব্যবহার করতে পারত, কিন্তু করে না কেন? এর পিছনে কোনও কাকতালীয় ব্যাপার নয়, রয়েছে ৩টি বড় কারণ।
১. খরচ বাঁচানোর খেলা - আসল কারণ এটাই: আমরা যে বাদামি বক্সগুলো দেখি, সেগুলোকে বলে করোগেটেড বক্স। এগুলো তৈরি হয় রিসাইকেল করা কাগজ, কাঠের পাল্প দিয়ে। এই পাল্পের প্রাকৃতিক রংই হল বাদামি।
এটাকে যদি সাদা করতে হয়, তাহলে আলাদা করে ব্লিচিং বা রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাদা করতে হয়। তাতে খরচ অনেক বেড়ে যায়। একটি সাদা বক্স তৈরি করতে বাদামি বক্সের তুলনায় প্রায় ৫-১০% বেশি খরচ হয়। যে কোম্পানি দিনে লক্ষ লক্ষ বক্স ব্যবহার করে, তাদের কাছে এই ৫% মানে কোটি কোটি টাকা। তাই কোম্পানিগুলো ইচ্ছা করেই বাদামি রাখে।
২. পরিবেশবান্ধব এবং মজবুত: বাদামি বক্স মানেই আনব্লিচড এবং রিসাইকেল করা। সাদা বক্স তৈরির জন্য যে ক্লোরিন ব্লিচিং করা হয়, তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই অ্যামাজনের মতো বড় কোম্পানিগুলো নিজেদের গ্রিন বা পরিবেশবান্ধব দেখাতেও বাদামি বক্স ব্যবহার করে।
আবার বৈজ্ঞানিক দিক থেকেও বাদামি বক্স বেশি মজবুত। ব্লিচিং করলে কাগজের ফাইবার দুর্বল হয়ে যায়। বাদামি বক্সে সেই ফাইবার অক্ষত থাকে, তাই এটি বেশি চাপ সহ্য করতে পারে এবং প্রোডাক্ট সুরক্ষিত থাকে।
৩. ব্র্যান্ডিংয়ের সাইকোলজি: এটাও একটা বড় কারণ। বাদামি রংটা আমাদের মস্তিষ্কে পরিবেশবান্ধব, সাধারণ, এবং বিশ্বাসযোগ্য একটা অনুভূতি তৈরি করে। আর বাদামি বক্সের উপর কালো রঙের লোগো বা স্টিকার সবচেয়ে ভালোভাবে ফুটে ওঠে। আপনাকে আলাদা করে প্রিন্টিংয়ের জন্য বেশি খরচ করতে হয় না।
তাহলে বুঝতেই পারছেন, বাদামি রংটা কোনও স্টাইল নয়, এটা হল কোম্পানিগুলোর কোটি কোটি টাকা বাঁচানোর এবং পরিবেশ বাঁচানোর এক স্মার্ট কৌশল। পরের বার যখন বাদামি বক্স হাতে পাবেন, এই কথাটা মনে পড়বে কিন্তু!
