তাপমাত্রা যদি হিমাঙ্কের কাছে থাকে, জিন্‌সই কিন্তু বিপদে ফেলতে পারে। ঠান্ডা আটকানোর বদলে, ঠান্ডা লাগার কারণ হয়ে উঠতে পারে। কেন এমন হবে? 

বরফের জায়গায় বা প্রচণ্ড ঠান্ডায় বেড়াতে গিয়ে জিন্‌স পরা একদমই অনুচিত, কারণ ডেনিম কাপড় দ্রুত ভিজে যায়, শুকায় না, এবং শরীরের তাপ শুষে নিয়ে হাইপোথার্মিয়া বা মারাত্মক ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি বাড়ায়। এর পরিবর্তে ওয়াটারপ্রুফ প্যান্ট, থার্মাল ইনার, উল বা অ্যাক্রাইলিক পোশাক এবং লেয়ারিং (স্তর অনুযায়ী পোশাক) করা বুদ্ধিমানের কাজ।

কেন বরফের জায়গায় জিন্‌স পরবেন না?

* আর্দ্রতা শোষণ: জিন্‌স বা ডেনিম কাপড় তুলা (Cotton) দিয়ে তৈরি, যা খুব দ্রুত বরফ বা ঘাম শুষে নেয়।

* শুকায় না: ভিজে গেলে জিন্‌স সহজে শুকায় না। ভেজা জিন্‌স পড়ে থাকলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায়, যা খুব বিপজ্জনক।

* ঠান্ডা বাতাস চলাচল: জিন্‌স বাতাসের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং প্রবল ঠান্ডায় এটি শরীরকে যথেষ্ট উষ্ণতা দিতে পারে না।

* স্বাস্থ্য ঝুঁকি: ভেজা জিন্‌স পড়ে দীর্ঘক্ষণ থাকলে হাইপোথার্মিয়া (শরীরের তাপমাত্রা বিপদজনকভাবে কমে যাওয়া) হতে পারে।

কোন পোশাক বাছবেন?

* প্রথম স্তর (Base Layer): ত্বকের কাছাকাছি থাকা পোশাকটি সিন্থেটিক বা পলিয়েস্টার থার্মাল ইনার হওয়া উচিত, যা শরীরের ঘাম শুষে বাইরে বের করে দেয়।

* দ্বিতীয় স্তর (Middle Layer): সোয়েটার, ফ্লিস জ্যাকেট, বা হালকা ডাউন জ্যাকেট যা শরীরের তাপ ধরে রাখে।

* তৃতীয় স্তর (Outer Layer): ওয়াটারপ্রুফ এবং উইন্ডপ্রুফ (বাতাস ও পানি নিরোধক) জ্যাকেট ও প্যান্ট। বরফের জায়গায় স্কি প্যান্ট বা স্নো প্যান্ট ব্যবহার করুন।

* পায়ের পোশাক: জিন্সের পরিবর্তে সিন্থেটিক ট্রেকিং প্যান্ট, ওয়াটারপ্রুফ ট্রাউজার্স বা লেগিংসের ওপর ওয়াটারপ্রুফ কভার ব্যবহার করুন।

অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ:

* জুতো: ওয়াটারপ্রুফ বা স্নো বুট, সাথে উল বা অ্যাক্রাইলিক মোজা।

* মাথা ও হাত: উল বা ফ্লিস টুপি (কান ঢাকার জন্য), মাফলার এবং ওয়াটারপ্রুফ হাতমোজা।

* চোখের সুরক্ষা: রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এবং বরফে দৃষ্টি ঠিক রাখতে সানগ্লাস বা স্নো গগলস ব্যবহার করুন।

সংক্ষিপ্ত টিপস:

* লেয়ারিং করুন: একের ওপর এক পোশাক পরলে ঠান্ডা কম লাগে এবং গরম লাগলে একটি খুলে ফেলা যায় ।

* সুতি কাপড় এড়িয়ে চলুন: সুতির পোশাক (Sweatshirt, cotton jeans) ভেজার পর ঠান্ডা হয়ে যায়।

* ওয়াটারপ্রুফ জ্যাকেট: এমন জ্যাকেট নিন যা জলরোধী।

ভ্রমণের জন্য এই নিয়মগুলো মেনে চললে বরফের জায়গায় আরামদায়ক ও নিরাপদ থাকা সম্ভব।