বিশ্বকাপ মানেই আবেগ। কিন্তু টানা রাত জাগা এবং ৩টেয় বিরিয়ানি সঙ্গে ৭টায় অফিস সবমিলিয়ে শরীরের ওপর টর্চার। চিকিৎসকরা কী বলছেন, জানুন

মেসি-রোনাল্ডোর শেষ বিশ্বকাপ। ঘুম যাক, অফিস যাক - খেলা চাই। কিন্তু SSKM হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগ বলছে, বিশ্বকাপের মাসে হার্ট অ্যাটাকের রোগী ২০% বাড়ে। কারণ? রাত জাগা সঙ্গে স্ট্রেস ও জাঙ্ক ফুডের কম্বো।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

চিকিৎসকরা বলছেন: এই ৫টা ক্ষতি হচ্ছে আপনার

১. ক্ষতি ১: ঘুমের ধার শোধ করতে ৩ দিন লাগে

রোজ ২ ঘন্টা ঘুম কম = স্লিপ ডেপ্ট। ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন বলছে, ১ ঘন্টা ঘুম কমলে রিয়্যাকশন টাইম মদের নেশার মতো কমে যায়। অফিসে ভুল, গাড়ি চালাতে রিস্ক।

ডাক্তারের টিপ: "ঘুমের ব্যাঙ্ক" করুন। ম্যাচের আগের দিন ১ ঘন্টা বেশি ঘুমান। ম্যাচের পর দিন দুপুরে ২০ মিনিট পাওয়ার ন্যাপ। ২০ মিনিটের বেশি নয়, নাহলে রাতে ঘুম আসবে না।

২. ক্ষতি ২: রাত ৩টেয় বিরিয়ানি = সুগার + অ্যাসিডিটি বোমা

রাতে মেটাবলিজম স্লো। এই সময় চর্বি-মশলা খেলে সুগার স্পাইক করে, গ্যাস-অ্যাসিডিটি হয়। ডায়াবেটিস পেশেন্টদের সুগার ৩০+ হয়ে যাচ্ছে।

ডাক্তারের টিপ: রাতের স্ন্যাকস বদলান। বিরিয়ানি নয়, বাদাম + কলা + গ্রিন টি। চা-কফি ২ কাপের বেশি নয়। পেট খারাপ হলে ম্যাচ এনজয় হবে না।

৩. ক্ষতি ৩: স্ট্রেস + চিৎকার = BP, হার্টের চাপ

লাস্ট মিনিটে গোল, পেনাল্টি শুটআউট। অ্যাড্রিনালিন + কর্টিসল হুড়মুড়িয়ে বাড়ে। BP পেশেন্টদের ১৮০/১০ হয়ে যাচ্ছে। হার্টের রোগীদের জন্য রিস্কি।

ডাক্তারের টিপ: উত্তেজনা কমাতে মাঝে মাঝে উঠে জল খান। ১০টা গভীর শ্বাস নিন। গোল হলে চিৎকার নয়, বালিশ চাপুন। হার্ট আপনার, ম্যাচ ওদের।

৪. ক্ষতি ৪: স্ক্রিন + অনিদ্রা = চোখ-মাথার বারোটা

রাত ৩টে পর্যন্ত ফোন/টিভি। নীল আলো মেলাটোনিন হরমোন মারে। ফল: চোখ জ্বালা, মাথা ধরা, সকালে "ব্রেইন ফগ"।

ডাক্তারের টিপ: টিভি থেকে ৬ ফুট দূরে বসুন। প্রতি ৩০ মিনিটে ২০ সেকেন্ড জানলা দিয়ে দূরে তাকান - 20-20-20 রুল। ঘুমানোর ১ ঘন্টা আগে স্ক্রিন অফ।

৫. ক্ষতি ৫: ইমিউনিটি ডাউন = জ্বর-সর্দি নিশ্চিত

টানা ৫ দিন রাত জাগলে শরীরের ন্যাচারাল কিলার সেল ৭০% কমে যায়। বর্ষাকালে ভাইরাস সহজে ধরবে।

ডাক্তারের টিপ: সকালে ঘুম থেকে উঠে ১ গ্লাস উষ্ণ জল + মধু + লেবু। ভিটামিন C যুক্ত ফল খান। শরীরকে সাপোর্ট দিন।

ডাক্তারের "স্মার্ট ফ্যান" রুটিন - ম্যাচও দেখবেন, শরীরও বাঁচবে:

ম্যাচের আগে: রাত ১০টায় ১ ঘন্টা ঘুমিয়ে নিন। এটাকে "প্রি-ন্যাপ" বলে।

ম্যাচের সময়: পাশে ১ লিটার জল রাখুন। চিপসের বদলে ভাজা ছোলা, মাখানা।

ম্যাচের পর: সাথে ঘুমাবেন না। ১৫ মিনিট হাঁটুন, মুখ ধুয়ে শুতে যান। নাহলে ঘুম আসবে না।

পরের দিন: অ্যালার্ম দিয়ে ২০ মিনিট পাওয়ার ন্যাপ। কফি ১ কাপ, ২ কাপ নয়।

রেড ফ্ল্যাগ - এই লক্ষণ দেখলে ডাক্তার দেখান:

১. বুক ধড়ফড় + বুক ব্যথা ম্যাচের সময়

২. টানা ৩ দিন ঘুম না আসা

৩. হঠাৎ ঝাপসা দেখা, মাথা ঘোরা

শেষ কথা:

বিশ্বকাপ আসে ৪ বছর পর। শরীর খারাপ হলে খেলা দেখবেন কী করে? আবেগ থাকুক, কিন্তু বিবেক দিয়ে ম্যাচ দেখুন। মেসি চাইবে আপনি সুস্থ থাকুন, শুধু ওর খেলা নয়।