চারধাম যাত্রার অন্যতম কেদারনাথ দর্শন মানেই স্বপ্নপূরণ। কিন্তু পুণ্য অর্জনের এই পথে পদে পদে লুকিয়ে আছে মৃত্যুফাঁদ ও পকেট ফাঁকা করার ফাঁদ। কলকাতার পুণ্যার্থীদের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে জানুন কেদারনাথ যাওয়ার আগে কোন ৫টি ভয়ঙ্কর সত্যি অবশ্যই জেনে রাখা উচিত।
হর হর মহাদেব ধ্বনি দিতে দিতে পাহাড় চড়া - এ এক অন্য অনুভূতি। কিন্তু সেই পুণ্যের পথেই যদি লুকিয়ে থাকে মৃত্যুর হাতছানি আর লুটের ফাঁদ? কেদারনাথ যাওয়ার স্বপ্ন দেখার আগে এই কঠিন বাস্তবটা জেনে যান, না হলে পকেট ফাঁকা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণটাও সংশয় হতে পারে। সম্প্রতি ঘুরে আসা বাংলার বহু পর্যটকদের অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ার সুন্দর ছবির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ঙ্কর কেদারনাথ।
১. ২২ কিমি পথে প্রতি পদে মৃত্যুর ফাঁদ:
গৌরীকুণ্ড থেকে কেদার মন্দির পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার ট্রেকই আসল পরীক্ষা। এই সরু, খাড়াই পথে একসঙ্গে চলে মানুষ, ঘোড়া, খচ্চর, ডুলি ও পালকি।
ঘোড়াওয়ালারা কোনও নিয়ম না মেনে অন্ধের মতো ঘোড়া ছোটায়। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। ডুলি বা ঝুড়িতে থাকা যাত্রীদের পা লেগে অনেকেই খাদে পড়ে যান। বর্ষায় রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। চোখের সামনে ঘোড়া থেকে পড়ে মাথা ফাটা, হাত-পা ভাঙার ঘটনা এখন রোজকার। প্রশাসনের নজরদারি প্রায় নেই বললেই চলে।
২. ঘোড়া-ডুলি-পালকির নামে দিনে দুপুরে লুট:
সরকার ঘোড়ার জন্য ২৫০০-৩০০০ টাকা রেট বেঁধে দিলেও বাস্তবে ৭০০০-১০০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ডুলি বা পালকির জন্য ১০,০০০-১৫,০০০ টাকা হাঁকা হচ্ছে জনপ্রতি। আপনি দরদাম করতে গেলেই খারাপ ব্যবহার। অনলাইনে বুকিং করলেও সেখানে ঘোড়া পাওয়া যায় না, কালোবাজারি চলে।
৩. থাকা-খাওয়ার অগ্নিমূল্য:
মন্দিরের কাছে একটা সাধারণ টেন্টে থাকতে গেলেও রাত প্রতি ৩০০০-৫০০০ টাকা। একটা সাধারণ ডাল-ভাতের থালি ৩০০-৪০০ টাকা, এক লিটার জলের বোতল ১০০ টাকা। শৌচালয়ের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, তার জন্যও ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
৪. শ্বাসকষ্ট ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি:
কেদারনাথ ১১,৭৫ ফুট উচ্চতায়। অক্সিজেন লেভেল খুব কম। ২২ কিমি খাড়া ট্রেক করতে গিয়ে অনেকেরই AMS (Acute Mountain Sickness) হয় - মাথা ঘোরা, বমি, বুকে ব্যথা। হার্টের রোগী, বয়স্কদের জন্য এই যাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যাপ্ত মেডিকেল ক্যাম্প বা অক্সিজেন সিলিন্ডার অনেক সময়ই পাওয়া যায় না।
৫. আবহাওয়া ও হেলিকপ্টার কেলেঙ্কারি:
কেদারে আবহাওয়া প্রতি ঘণ্টায় বদলায়। হেলিকপ্টার বুকিং পাওয়া সোনার হরিণ। IRCTC-র সাইটে টিকিট পাওয়া যায় না, কিন্তু বাইরে ১০-১৫ হাজার টাকায় ব্ল্যাকে বিক্রি হচ্ছে। হঠাৎ বৃষ্টি বা তুষারপাত হলে মাঝপথে আটকে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
যাওয়ার আগে কী করবেন?
- শারীরিক ফিটনেস না থাকলে হেঁটে ওঠার ঝুঁকি নেবেন না। - ঘোড়া নিলে সরকারি কাউন্টার থেকেই নিন, রসিদ নিন। - সঙ্গে কর্পূর, অক্সিজেন ক্যান, প্রয়োজনীয় ওষুধ, রেনকোট রাখুন। - GMVN-এর টেন্ট বা হোটেল আগে থেকে অনলাইনে বুক করে যান।
পুণ্য অবশ্যই করুন, কিন্তু চোখ-কান খোলা রেখে। সতর্ক না হলে তীর্থযাত্রাই হয়ে উঠবে দুঃস্বপ্ন।
