অনেকেই ভাবেন বাগান করা মানে অনেক খরচ। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেই তেমন নয়। রান্নাঘরের ফেলে দেওয়া জিনিস, গাছের ডালপালা আর কিছু সহজ বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে পয়সা খরচ না করেই আপনি আপনার ছোট্ট ব্যালকনি সবুজে ভরিয়ে তুলতে পারেন। রইল কিছু সহজ ও কার্যকরী টিপস।
বাগান করা শুধু বড়লোকদের শখ, এই কথাটা অনেকেই বলেন। কিন্তু এটা একেবারেই সত্যি নয়। একটু মাথা খাটালেই বিনা পয়সাতেও বাড়ির ব্যালকনিকে একটা সুন্দর বাগানে বদলে ফেলা যায়। এর জন্য দরকার শুধু একটু স্মার্ট প্ল্যানিং। বাড়িতে বাগান করার জন্য এই শূন্য-খরচের টিপসগুলো খুব কাজে আসবে, যা আপনার ১০x১০ ফুটের ব্যালকনিকেও সবুজ করে তুলবে।

কীভাবে বাড়িতে বাগান শুরু করবেন?
ডাল কেটে নতুন গাছ লাগান
গরমকাল থেকে বর্ষাকাল পর্যন্ত নতুন গাছ লাগানোর জন্য সেরা সময়। নার্সারি থেকে চারা না কিনে আপনি পার্ক বা আশপাশের বাড়ি থেকে সাহায্য নিতে পারেন, যেখানে অনেক গাছ লাগানো আছে। নতুন গাছ লাগানোর জন্য গাছের একটা ছোট্ট ডালই যথেষ্ট।
রান্নাঘর থেকেই পেয়ে যাবেন বীজ
শাক-সবজি ছাড়া ভারতীয় রান্নাঘর ভাবাই যায় না। আর এই সবজিগুলোর মধ্যেই বীজ পাওয়া যায়। আপনি টমেটো, ধনেপাতা, লঙ্কা থেকে বীজ বের করে সহজেই গাছ লাগাতে পারেন। এতে কোনও খরচ ছাড়াই ভালো ফলন পাবেন।

বাড়িতে সার বানাবেন কীভাবে?
বাজার থেকে সার বা ভার্মিকম্পোস্ট না কিনে আপনি রান্নাঘরের ভেজা আবর্জনা, ফলের খোসা, সবজির খোসা মিশিয়ে উর্বর সার তৈরি করতে পারেন। এটা মাটিকে যেমন উর্বর করে, তেমনই আপনার টাকাও বাঁচায়। আপনিও চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
খাবার থেকেই মিলবে লিকুইড ফার্টিলাইজার
অনেক সময় বাগানের কিছু গাছের বৃদ্ধি থেমে যায়। সেগুলোকে সতেজ করার জন্য তরল সার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু দোকান থেকে এটা কেনা বেশ খরচসাপেক্ষ। এর বদলে আপনি চাল ধোয়া জল বা আলু সেদ্ধ করার পর বেঁচে যাওয়া জল ব্যবহার করতে পারেন।

এক টবে একাধিক গাছ লাগান
বাগান করার জন্য যদি যথেষ্ট জায়গা না থাকে, তাহলে ছোট ছোট অনেক টবে পয়সা খরচ না করে একটা বড় টব কিনুন। আর তাতে একাধিক ছোট ছোট গাছ লাগান। এতে জায়গার সঠিক ব্যবহার হবে এবং আগাছাও কম জন্মাবে।
গাছ বদল করুন
বিনা পয়সায় বাগান করার এটা একটা দারুণ উপায়। আশপাশের বাগানপ্রেমী মানুষদের সঙ্গে গাছ বদল করুন। আপনার কাছে যে গাছ বেশি আছে, সেটা তাদের দিন এবং তাদের থেকে নতুন কোনও গাছ নিন। এর ফলে কোনও খরচ ছাড়াই আপনার বাগানে গাছের সংখ্যা বাড়তে থাকবে।


