করোনা উপসর্গ বদলে বদলে ক্রমশ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। প্রতিষেধক আবিষ্কারের মরিয়া চেষ্টার পরেও করোনা রোখার এখনও কোনও উপায় আবিষ্কার করে উঠতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। এই পরিস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভরসা স্য়ানিটাইজার, গ্লাভস আর মাস্কে। এমন পরিস্থিতিতে ঘরবন্দি সকলে। তার উপরে রয়েছে অফিসের চাপ, কারও সংসার সামলানোর চাপ, আরও নানান সমস্যা। এমন অবস্থায় মানসিক অবসাদ আসাটাই স্বাভাবিক। লকডাউনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে কিছুটা হলেও বদলে গিয়েছে রোজকার রুটিন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাত করে শুতে যাওয়া আর সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা। ফলে সারাদিন ধরে শরীর আরও অসুস্থ লাগছে। তবে খুব সহজেই এই অবসাদ কাটানোর বেশ কয়েকটি উপায় রয়েছে। এই উপায়গুলি মেনে চললেই সারাদিন কাজের পরেও আপনার মন থাকবে ফুরফুরে। জেনে নেওয়া যাক সেই নিয়মগুলি-

আরও পড়ুন- করোনা আতঙ্ক কি মহাকাশেও, ব়্যাডারে ধরা পড়ল মাস্ক পরা গ্রহাণুর ছবি

ঘন ঘন কফি বা চা পান করবেন না- একটানা কাজের পর কফি বা চা পান করতেই পছন্দ করেন অনেকেই। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, কফিতে ক্যাফেইন থাকার কারণে এটি স্বাভাবিকভাবেই অবসাদ অনুভূতিকে গাঢ় করে তোলে। এর পাশাপাশি ক্যফেনাইন স্ট্রেস কমাতেও সাহায্য করে। তাই প্রয়োজনে কাজের ফাঁকে উঠে চোখে মুখে জল দিয়ে আসুন। কিন্তু ঘন ঘন চা বা কফি পান করবেন না। 

নিজের প্রশংসা নিজেই করুন- সারাদিন যতটুকুই কাজ করুক না কেন, দিনের শেষে নিজের কাজের প্রশংসা করতে শিখুন। দেখবেন নিজের করা কাজের প্রতি একটা আস্থা তৈরি হবে। যা আপনাকে  কাজের প্রতি আরও অণুপ্রেরণা দেবে। তাই কতটা কাজ আপনি সারাদিনে করলেন তার একটা হিসেবও থাকবে আপনার কাছে। পাশাপাশি নিজের কাজের প্রতি মানসিক জোরও প্রবল হবে।

আরও পড়ুন- কোন কোন যোগ আপনাকে লকডাউনে রাখবে ফিট, পরামর্শ দিলেন তুষার শীল

সারাদিনের কাজের তালিকা তৈরি করুন- অনেক সময়ে দেখা যায় অতিরিক্ত কাজের চাপের ফলে কাজের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সেই জন্য সবথেকে ভাল হয় যদি সারা দিনের কাজের একটা তালিকা তৈরি করতে পারেন। এতে করে কোন কোন কাজ বাকি রয়েছে সেটা খুব সহজেই আপনার মাথায় থাকবে। ফলে চাপও কম হবে। 

নিজের যত্ন নিন- অতিরিক্ত কাজের চাপের ফলে চোখের তলায় কালচে দাগ পড়ে যায়, তা দীর্ঘ দিন ধরে চলার পর তা দেখতে খারাপ লাগে। তাই খানিকটা বরফ নিয়ে চোখে বা মুখে লাগিয়ে নিন। এতে ত্বকের ক্লান্তি কমবে, পাশাপাশি সারাদিন ত্বক সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।

নিজের জন্য সময় বের করুন-  যদি খুবই চাপের মধ্যে থাকেন তাহলে একান্ত নিজের জন্য সময় বের করুন। যতই কাজের চাপ থাকুক না কেন নিজের জন্য সময় বের করাটা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে লকডাউনের এই সময়ে ঘর থেকে বাইরে যাওয়ার উপায় নেই, তাই ছাঁদে হোক বা প্রিয় ব্যালকনিতে হোক একান্তে নিজের সঙ্গে সময় কাটান। প্রিয় গান শুনুন, গল্পের বউ পড়ুন, বন্ধুদের সঙ্গে মন খুলে আড্ডা দিন দেখবেন স্ট্রেস মুক্তির জন্য এটি ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।