কথায় আছে আত্মহত্যা মহাপাপ। কিন্তু আত্মহননের পথ বেছে নেওয়ার সময়ে কেউ কি পাপ পুণ্যের কথা ভাবার মতো অবস্থায় থাকেন না। বহুদিন ধরে অবসাদে ভুগতে এই পথ বেছে নেন অনেকেই। আবার কারও ক্ষেত্রে প্রায়ই মাথার মধ্য়ে আত্নহত্যা সংক্রান্ত ভাবনা ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কেউ খোলাখুলি এই নিয়ে আলোচনা করতে পারেন না। কারণ আজও আমাদের সমাজে মেন্টাল হেলথ নিয়ে বহু ট্যাবু রয়েছে। তাই আমাদের চার পাশে সবচেয়ে হাসিখুশি মানুষটার আত্মহত্যার খবরে আমরা অবাক হই। 

কিন্তু তবুও মনোবিদরা বলছেন সুইসাইডাল থটস থেকে রেহাই পাওয়ার কিছু উপায় রয়েছে। জেনে নেওয়া যাক সেগুলি কী কী- 

১) সুইসাইডাল থট বা আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় আসলে নিরাপদ জায়গায় থাকা প্রয়োজন। এই সময়ে কোনও  নদীর ধার, ছাদ, মেট্রো স্টেশন, আগুন, ধারালো অস্ত্র থেকে দূরে থাকতে হবে। আপনার পরিবারের কেউ যদি প্রায়ই সুইসাইডাল থটস-এ ভোগেন তাঁকে নিরাপদ জায়গায় রাখার দায়িত্ব আপনার। 

২) বড় কোনও আঘাত পেলে অনেকেই তা মেনে নিতে পারেন না। ভেঙে পড়েন ভিতর থেকে। তখনই মনে আত্নহত্যার চিন্তা ভিড় করতে থাকে। জীবনের সিংহভাগ ভালো সময়ের কথা ভুলে গিয়ে একেবারে ইতি টানার কথা ভেবে ফেলেন অনেকে। এই উদ্বেগের সময়ে ধীরে নিঃশ্বাস নেওয়া উচিত। এতে হার্ট রেট স্লো হয় এবং ব্রেনে অক্সিজেন সহজে চলাচল করতে পারে। 

৩) এই সময়ে নেগেটিভ ভাবনা চিন্তারা ছেঁকে ধরে। তখন এগুলি থেকেই নিজেকে সরিয়ে ফেলা প্রয়োজন। শ্বাস প্রশ্বাসের ওঠানামায় নজর দিন। নিজের হার্টবিট গুনতে থাকুন। এমন কিছু ভাবুন যা আপনাকে আনন্দ দেয়। পরিবারের প্রিয়জনের মুখ কল্পনা করতে থাকুন। নিজের মনে মনে ভাবুন আপনি নিজেকে শেষ করলে ক্ষতি কার, লাভই বা কার। নিজে যা ভাবছেন সঙ্গে সঙ্গে তা খাতায় লিখতে থাকুন। 

৪) আত্মহত্যার কথা মাথায় আসলেও কারওকে বলতে পারেন না। প্রিয়জনদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন  না। কিন্তু অনলাইনেই এমন পরিষেবা রয়েছে। গুগলে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন এমন অনেক হেল্পলাইন নম্বর। 

৫) আপনার পাশে প্রিয়জনরা থাকলেও অবসাদ থেকে নিজেকেই কাটিয়ে উঠিয়ে হবে। হিংসা দেখানো হয়েছে এমন সিনেমা ভিডিও দেখবেন না। হাসি খুশি থাকা যায় এমন সিনেমা বা গল্পের বই পড়ুন। নিজেকে  বোঝান পৃথিবীতে থেকে কাজের মাধ্যমে আপনি মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারবেন। বেঁচে থেকেই অনেক দায়িত্ব পালন করা যায়।