প্লাস্টিক দূষণ, গ্লোবাল ওয়ার্মিং ও পরিবেশ দূষণ প্রতিদিন এই সমস্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার সৃষ্টি আছে তার ধ্বংসও আছে। এ এক চিরন্তন সত্য। তাই এই সুন্দর পৃথিবীও প্রতিদিন ক্রমশ এগিয়ে চলেছে ধ্বংসের দিকে। পৃথিবীকে এই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য দিনরাত পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এই নিয়ে বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিদ ও কসমোলজিস্ট স্টিফেন হকিং বহু ভবিষ্যৎ বানী করে গিয়েছেন। আর এই গবেষণার মাধ্যেই উঠে এসেছে বেশ কিছু তথ্য। বিজ্ঞানীর জানিয়েছেন ঠিক এই কারণগুলোর জন্যই ধ্বংস হবে পৃথিবীর। 

১) মহাজাগতিক বিস্ফোরণ- 

বিজ্ঞানীদের মতে মহাকাশে পরপর এমন কিছু বিস্ফোরণ হচ্ছে যার প্রভাবে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে সৌর পরিবার। ইতিমধ্যেই পৃথিবীর ধ্বংসলীলা শুরু হয়ে গিয়েছে। ধ্বংসের মুখে পড়তে চলেছে সৌর জগৎ-সহ গোটা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবী থেকে মাত্র ৩৯ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে বিশ্বের বৃহত্তম বিস্ফোরণ ঘটেছে। আর তা সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। 'বিগ ব্যাং'-এর পর এটিই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ। যে বিস্ফোরণটি ছায়াপথ ক্লাস্টার এমএস০৭৩৫ + ৭৪-এ বিস্ফোরণের চেয়ে ৫ গুণ বেশি শক্তি নির্গত হয়েছিল। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব অনেকটাই বলে তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি। তবে ক্রমাগত মহাকাশে এই ধরণের বিস্ফোরণ ঘটতে থাকলে, তা এই পৃথিবী-সহ সৌরজগতের অস্তিত্বটুকুও টিকিয়ে রাখবেনা।

২) জৈব অস্ত্র- 

বিজ্ঞানীরা মনে করেছেন মানুষের গবেষণার ফলে সৃষ্টে হবে এমন কিছু ভাইরাস বা জীবানুর যা এক ভয়ঙ্কর রূপ নেবে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সার্স বা কোভিড-এর আরও বহু মত মারণ ভাইরাস পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। যা ধীরে ধীরে মানবতার ধ্বংস করবে। এর ফলে জীবজগতে নেমে আসতে পারে চরম বিপর্যয়। এমনই কিছু ভাইরাসের প্রভাবে ধ্বংসের মুখে পড়তে হবে গোটা জীব সমাজকে। আর যার ফলে ধ্বংস হবে পৃথিবীর। 

৩) মানবতার বিলুপ্তি- 

প্রফেসর স্টিফেন হকিংস এর মতে, প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে স্থিতিশিল হয়ে উঠবে মানুষের জনসংখ্যা, এমনটাই দাবি বিজ্ঞানীদের। প্রযুক্তির প্রতি মানুষ এতটাই অভ্যস্ত হয়ে উঠবে যার ফলে মানব সভ্যতার দিন শেষ হবে৷ তার বদলে বিশ্ব জুড়ে রাজত্ব করবে রোবটরা৷ বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের হাতে তৈরি রোবটরাও একদিন মানবতার ধ্বংস করবে৷ ফলে পৃথিবী থেকে একদিন মানব জাতিক বিলুপ্তি ঘটবে।

৪) সৌর ঝড়-  

পৃথিবীর টিকে থাকার জন্য সূর্যের উপস্থিতি প্রয়োজন। পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সৌর শক্তি যা খুব দ্রুত পৃথিবীতে এসে উপস্থিত হয়। এই সূর্যের রশ্মির থেকেই নির্গত হওয়া সোলার ম্যাক্স, যা সূর্য থেকে নির্গত হওয়া সবচাইতে শক্তিশালী এক রশ্মি। এই আলোকরশ্মি খুব দ্রুত আঘাত হানতে পারে পৃথিবীতে। আর এর তাপ প্রবাহে জ্বলে পুড়ে ধ্বংস হবে পৃথিবী, এমনটাই মত বিজ্ঞানীদের।

৫) আগ্নেয়গিরি- 

সারা পৃথিবী জুড়ে কয়েকশো আগ্নেয়গিরি রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রায় ৫০০-এর মত সুপ্ত ও জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। বিজ্ঞানীদের এক অংশের আশঙ্কা এই সুপার আগ্নেয়গিরি জেগে উঠলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। এই ৫০০ টি আগ্নেয়গিরির মধ্যে এমন ৪টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যা চোখের পলকে পৃথিবীকে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাই এদের নাম সুপার আগ্নেয়গিরি। এই চারটি আগ্নেয়গিরি হল ১) ইন্দোনেশিয়ার লেক টোবা ২) আমেরিকার ইয়োলোস্টাইন ৩) জাপানের অ্যায়রা কালডেরা ৪) নিউজিল্যান্ডের টাউপো। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরি হল আমেরিকার ইয়েলোস্টোন। এটি হল পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সুপার আগ্নেয়গিরি। এই চারটে সুপার আগ্নেয়গিরির মধ্যে, যে কোনও একটি জেগে উঠলে বা লাভা উদগীরণ তা প্রায় ২০০০ মিলিয়ন সালফিউরিক এসিড বের করার সম্ভাবনা। যার ফলে শুধু পৃথিবী নয় ক্ষতি হবে সূর্যেরও।