তৈলাক্ত ত্বকে এই সমস্যা সব থেকে বেশি দেখা যায়। ত্বকে এক ধরনের সাদা সাদা ছোপ যা নাক, কপাল এবং গালের আশপাশে দেখা দেয়। অনেকের ক্ষেত্রে পিঠে দেখা দেয় এই সমস্যা। মুখে তৈলাক্ত ভাব এবং ধুলাবালি জমে থাকার কারণে ত্বকে হোয়াইট হেডসের মতো সমস্যা দেখা দেয়। হোয়াইট হেডস হল এক ধরনের ব্রন, যা মূলত গঠিত হয় যখন ত্বক দ্বারা নির্গত তেল বা মৃত কোষ দিয়ে ত্বকের রন্ধ্র ব্লক হয়ে যায়। এছাড়াও অতিরিক্ত ধুমপান, দুশ্চিন্তা ও অপরিস্কার ত্বক থেকেও হোয়াইট হেডস হয়ে থাকে। হোয়াইট হেডসের সমস্যা কমবেশী আমাদের প্রায় সবারই রয়েছে। কিছু ঘরোয়া পদ্ধতিতে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। যেমন-

আরও পড়ুন- ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন নামে পালিত হয় এই উৎসব, বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী উৎসব পৌষ সংক্রান্তি

টমেটো- হোয়াইট হেডসের সমস্যার এটি একটি অন্যতম উপাদান। টমেটোর রস ও বীজ হোয়াইট হেডস দূর করতে অনবদ্য, কারন এটি হোয়াইট হেডস কে পুরোপুরি শুকিয়ে দেয় এবং সহজেই সমস্যার সমাধান হয়। সম্ভব হলে ২-৩ ঘন্টা টমেটোর রস ও বীজ হোয়াইট হেডস যেখানে রয়েছে লাগিয়ে রাখুন। তারপর পরিষ্কার জনে মুখ ধুয়ে নিন।

পাতিলেবুর রস- লেবুতে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিওক্সিডেন্ট এবং এ্যন্টিসেপটিক উপাদান রয়েছে। যার ফলে রাতারাতি আপনি হোয়াইট হেডসের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। লেবুর রস নিন এবং তাতে অল্প পরিমান জল মেশান। লেবুতে থাকা অ্যসিডে অনেকক্ষেত্রে স্কিনে ইরিটেশন হয়। তারমধ্যে এক চিমটে লবন দিয়ে নিন। মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে হালকা গরম জলে ভাল করে মুখ ধুয়ে নিন। তফাৎটা আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন।

আরও পড়ুন- চুল ঝড়ে যাচ্ছে, সমস্যা মেটান সহজ এই ঘরোয়া পদ্ধতিতে

ডিম ও মধু- হোয়াইট হেডসের সমস্যার সমাধান এর জন্য আপনি ডিম ও মধু দিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে পারেন। ডিমের সাদা অংশ নিন ও মধু দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। আপনার স্কিনের যে অংশে হোয়াইট হেডস রয়েছে সেখানে এই প্যাকটি সেই অংশে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। প্যাকটি শুকিয়ে এলে ত্বকে আপনি টান অনুভব করবেন তখন হালকা গরম জলের সাহায্যে প্যাকটি তুলে ফেলুন। লক্ষ্য করে দেখবেন আপনার হোয়াইট হেডস অনেক কমে গিয়েছে।

চিনি ও মধু- যারা কাঁচা ডিমের গন্ধ সহ্য করতে পারেন না তারা হোয়াইট হেডসের জন্য চিনি ও মধু দিয়েও স্ক্রাবার বানিয়ে নিতে পারবেন। মধুর সঙ্গে চিনির পরিমান একটু বেশি নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রনটি মুখে লাগানোর আগে ভাল করে মুখ ধুয়ে নিন। এরপর আপনার স্কিনের যে অংশে হোয়াইট হেডস রয়েছে সেখানে এই স্ক্র্যাবারটি দিয়ে ভাল করে স্ক্র্যাব করুন। ৫-১০ মিনিট স্ক্র্যাব করার পর মুখ ধুয়ে ফেলুন। এর সাহায্যে আপনার স্কিনের হোয়াইট হেডস এর সঙ্গে ডেডসেল ও পরিষ্কার হয়ে যাবে।

বেকিং সোডা- ঘরোয়া পদ্ধতিতে বেকিং সোডার সাহায্যেও আপনি হোয়াইট হেডসের সমস্যার সমাধান করতে পারেন। বেকিং সোডার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা জল মেশান, দেখতে অনেকটা গলে যাওয়া আইসক্রীমের মতন হয়ে যাবে। তখন স্কিনের যে অংশে হোয়াইট হেডস রয়েছে সেখানে এই স্ক্র্যাবারটি দিয়ে হালকা করে স্ক্র্যাব করুন এবং হালকা গরম জলে ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে শুধু হোয়াইট হেডস সমস্যার নয় একই সঙ্গে আপনার ত্বকের ব্লিচ ও হয়ে যাবে। যার ফলে আপনার ত্বক আরও উজ্জ্বল দেখাবে।