কখনও না কখনও আমাদের সবাইকেই চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যাতে পড়তে হয়েছে। সারাদিনে কয়েকটি চুল পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। তবে চুল উঠে গিয়ে টাক পড়ে যাওয়াটা সাধারনত ভাবে কোন অসুখ, ওষুধের সাইডএফেক্ট, ডায়েট এর জন্য বা জিনগত কারনের ফলে হয়ে থাকে। তাই এই মরশুমেই বিশেষ যত্নের প্রয়োজন ত্বক ও চুলের। শীতকালে যখন আবহাওয়াতে আর্দ্রতা কম থাকে তখন ত্বকের শুষ্কতা বৃদ্ধি পায়। এই মরশুমে সুন্দর স্বাস্থ্যজ্জ্বল চুল পেতে শুধু তেল আর শ্যাম্পুই যথেষ্ট নয়। চুলের এই সময় প্রয়োজন বাড়তি যত্নের। দূষণময় পরিবেশে চুলের যত্ন নিতে সকলে ভরসা রাখেন পার্লারের উপর। তবে পার্লারের উপর ভরসা রাখলেও নজর দিতে হবে চুলের গোড়ায়। কারণ গলদটা রয়েছে গোড়াতেই। 

আরও পড়ুন- ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে নিন ত্বকের যত্ন, বাড়িতেই বানিয়ে নিন বিশেষ নাইটক্রিম

এই সময়েই স্ক্যাল্পে বাড়তে থাকে ইচিং, ড্রাইনেস।  মাথা চুলকানি বা ইচিং হওয়া মানেই উকুন জাতীয় সমস্যা নয়। স্ক্যাল্পে ইনফেকশন হলেও এটা হওয়া সম্ভব। এই মরশুমেই স্ক্যাল্পে হতে পারে ফাংগাল ইনফেকশনের মত সমস্যাও। তবে এই ধরণের সমস্যা অতিরিক্ত মাত্রায় বৃদ্ধি পেলে প্রথমেই পরামর্শ নিন চিকিৎসকের। ঋতু বদলের সময় এই সমস্যা হাত থেকে রক্ষা পেতে ট্রাই করতে পারেন এই ঘরোয়া পদ্ধতিও। আজকাল অনেকেই চুল পড়া বন্ধ রাখার জন্য ওষুধ ও খান। তবে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতির সাহায্যেই আপনি এই সমস্যার থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

১) হট অয়েল ম্যাসাজ- আজকাল আমরা অনেকেই মাথায় তেল দিই না, কিন্তু এর উপকারীতা অসীম। অয়েল ম্যাসাজের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায় এবং চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে। এর জন্য নারকেল, অলিভ, আমন্ড তেল ব্যবহার করতে পারেন।

আরও পড়ুন- শীতকালে মেকআপ করতে সমস্যা, জেনে নিন এর সমাধানের সহজ পথ

২) নারকেলের দুধ- একটি চুল পড়া বন্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, এটি চুলের গোড়ায় ভাল করে ম্যাসাজ করলে চুল পড়ার সমস্যা থেকে সমাধান পাবেন।

৩) নিম আমলা- এই দুটি উপাদান চুলের জন্য অনবদ্য। এই মরশুমে আমলা খুনব সহজলভ্যও। নিমপাতা তেলের সঙ্গে ফুটিয়ে নিয়ে নিম তেল বা একই পদ্ধতিতে আমলা তেল বানিয়ে ম্যাসাজ করুন। অথবা নিম পাতা বেঁটে নিয়ে মাথায় দিয়ে ম্যাসাজ করতে পারেন। সপ্তাহে অন্তত দুবার এই পদ্ধতি ব্যবহার করুন।

৪) অ্যালোভেরা জেল- চুলের গোড়ায় ভাল করে অ্যালোভেরা জেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন। ১-২ ঘন্টা রেখে ঈষদ্উষ্ণ গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আরও পড়ুন- সফ্ট টিস্যু সার্কোমা, জেনে নিন এই রোগের উপসর্গ

৫) হেয়ার প্যাক- অতিরিক্ত চুল উঠার সমস্যা থাকলে কোনও ক্যামিক্যল প্রোডাক্ট ব্যবহার না করে বাড়িতেই বানিয়ে নিন হেয়ার প্যাক। ডিম আর টকদই ভাল করে ফেটিয়ে  তাতে কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস মিশিয়ে নিন। চুলের গোড়ায় ভাল করে দিয়ে লাগিয়ে শুকিয়ে নিন। তারপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৬) ট্রিমিং- দুই থেকে তিন মাস পর পর অবশ্যই চুল ট্রিম করান। এতে চুল তাড়াতাড়ি লম্বা হয় এবং দুমুখো চুল হওয়ার থেকেও রেহাই পাওয়া যায়।

৭) ডায়েট- চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে বাইরে থেকে পরিচর্যা ছাড়াও আপনার রোজকার খাদ্য তালিকায় রাখুন পুষ্টিকর খাবার, সবুজ  শাক-সবজি ও মুরশুমি ফল। এতে শরীরের পুষ্টিগুণ বজায় থাকবে পাশাপাশি চুলের স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।