ব্য়স্ততার যুগে অফিস থেকেই ছুটি পেয়ে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার কথা ভাবাই দুষ্কর। আর সাপ্তাহিক ছুটি বলতে কেউ শনি রবি ছুটি পান। আবার কারও  কপালে দুদিন ছুটিও জোটে না। কিন্তু তা বলে কি ভ্রমণ পিপাসু মনকে বেঁধে রাখা যায়! তাই খুঁজে নিতে হয় কাছে পিঠে বেড়ানোর কোনও জায়গা। 

তবে কাছেপিঠে কোনও এলাকা মানেই পুরী বা দিঘার বা কথা বলা হচ্ছে না। নির্জনতা উপভোগ করতে চলে যান হেনরি আইল্যান্ড। শীত হেনরি আইল্যান্ড বেড়িয়ে আসার জন্য যথাযথ। কিন্তু যাঁরা হঠাৎ হঠাৎ কোনও প্ল্যান ছাড়াই ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে  পড়েন, রোমাঞ্চ ভালোবাসেন তাঁরা চাইলে বর্ষাতেও বেড়িয়ে আসতে পারেন হেনরি আইল্যান্ড থেকে। কলকাতা থেকে এর দূরত্ব ১৩০ কিলোমিটার। 

দক্ষিণ ২৪ পরগণার বকখালির কাছে অবস্থিত হেনরি আইল্যান্ড আসলে একটি দ্বীপ। এই দ্বীপে একই সঙ্গে সমুদ্র ও জঙ্গলের মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন। বৃষ্টি হওয়ার আগে মেঘ ভরা আকাশ যেন সমুদ্রর সঙ্গে মিশে যায়। আর মেঘের ফাঁক থেকে উঁকি দেওয়া সূর্যের আলো যখন বালিতে পড়ে চিকচিক করে মনে হয় কোনও স্বপ্নরাজ্যে রয়েছেন আপনি। 

এখানে রয়েছে ম্যানগ্রোভ অরণ্য। বাঁশের সাঁকো পথ দিয়ে জঙ্গলের ভিতরে প্রবেশ করতে হয়। বালির মধ্যে থেকে মাঝে মাঝেই উঁকি দেবে লাল কাঁকড়ার দল। নানা রকম গাছ ও নানা রকম পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা এখানে লেগেই থাকে। সমুদ্রতীরে চেয়ার নিয়ে বসেও থাকতে পারবেন। রয়েছে ওয়াচটাওয়ারও। এখানে উঠলে পুরো বকখালি চোখ ভরে দেখতে পাবেন। 

হেনরি আইল্য়ান্ড কী ভাবে যাবেন- 

১) সড়কপথ- ধর্মাতলা থেকে প্রতিদিন সকাল ৭ টা ও ৮টায় বকখালি যাওয়ার বাস ছাড়ে। সেই বাসে উঠে পড়ুন। জেটিঘাট নামুন। এখান থেকে বকখালির দূরত্ব ৪ কিলোমিটার। দোকানিয়া নদী পেরিয়ে যেতে হয় বকখালি। বকখালি থেকে ভ্যান পেয়ে যাবেন হেনরি আইল্যান্ড যাওয়ার। বাসে টিকিট কাটতে খরচ হবে ৯০ টাকা। 

২) রেল পথ- শিয়ালদহ স্টেশন থেকে লক্ষ্মীকান্তপুর বা নামখানা লোকাল ধরুন। নামখানায় নামুন। এখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছে যান হেনরি আইল্যান্ড। ট্রেনে গেলে ২৫ টাকার টিকিটেই পৌঁছে যাবেন নামখানা  স্টেশন। পৌঁছতে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা। 

হেনরি আইল্যান্ড বেড়ানোর খরচ কেমন- হেনরি আইল্যান্ডে বেড়াতে গেলে টাটকা মাছের নানারকম পদ খেতে পারেন। এছাড়া ৭০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০ টাকার মধ্য়ে পেয়ে যাবেন হোটেলও। রয়েছে সুন্দরী টুরিস্ট কমপ্লেক্স, ডলফিন হোটেল, হোটেল অমরাবতী ইত্যাদি।