শীতে নানা কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ে। কেউ বলেন, আমাদের জল খাওয়া কম হয়। কেউ বলেন শরীরের মুভমেন্ট ঠিকমতো হয় না। দিনের বেশ কিছুটা সময় আমরা জবুথবু হয়ে কাটাই। তাই এত কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয় এই সময়ে।

কারণ যাই হোক না কেন, এর থেকে বেরনোর একটা পথ তো বার করা দরকার। নইলে তো বেজায় অস্বস্তি।

প্রথমেই বলি, জল খুব কম খাওয়া হচ্ছে কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে। চাইলে ইসবগুলের ভুষি খেতে পারেন নির্ভাবনায়। মনে রাখবেন, এটি কিন্তু সম্পূর্ণ নিরাপদ। এছাড়া, দিনে বা রাতে যে কোনও একটা সময়ে কিছুটা খই খেতে পারেন। খই কিন্তু কোষ্ঠকাঠিন্যে দারুণ কাজে দেয়। আপনার যদি দুধ সহ্য হয়, তাহলে একটু খই দিয়ে দুধ খান। খুব উপকার পাবেন। চাইলে বাড়িতে পাতা দই দিয়েও খই খেতে পারেন। তবে, খই খান বা না-খান, দই খান নিয়মিত। অবশ্যই বাড়িতে পাতা টকদই বা দুধের দোকান থেকে কিনে আনা প্যাকেটের টকদই। দইয়ের মধ্যে থাকে প্রো-বায়োটিক। যা হজমে ভীষণ সাহায্য করে। আর হজম ভাল হলে কোষ্ঠকাঠিন্যও অনেকটা কমে। আর হ্যাঁ, ডায়াবেটিস না-থাকলে রোজ একটা করে কলা খান। তিন-চারটে খেজুরও খেতে পারেন। 

এতসব করেও যদি সমস্যা থেকে যায়, তাহলে কিছুদিন একটু ত্রিফলা বা সেনা খেয়ে দেখতে পারেন। এগুলি সবই আয়ুর্বেদিক উপাদান। ফলে সেভাবে কোনও চিন্তার কারণ নেই। ত্রিফলা তো কোষ্ঠকাঠিন্যে কাজে দেয়ই, তবে সেনা আরও বেশি কাজে দে। তবে খুব বেশিদিন সেনা খাবার কোনও দরকার নেই।

রাতে ঘুম যাতে ভাল হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। ঘুম ভাল না-হলে কিন্তু হজমের বারোটা বাজে। আর তার ফলে অবধারিতভাবে দেখা দেয় কোষ্ঠকাঠিন্য। পারলে সকালে ঘুম থেকে উঠে বা রাতে শুতে যাওয়ার আগে ঈষদষ্ণু গরম জল খান। দেখবেন কোষ্ঠকাঠিন্যে কাজে দেবে। আর শীত যতই পড়ুক না কেন, সারাদিন জবুথবু হয়ে না-থেকে, শরীরটাকে যতটা সম্ভব চালু রাখুন আর একটু হেঁটে আসুন, দেখবেন কোষ্ঠকাঠিন্য কমবেই কমবে।