শাহাজান আলি, মেদিনীপুর: আমফান ঝড়ের আগে পুরোপুরি প্রস্তুত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। সোমবার সকাল থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং পদ্ধতিতে জেলার প্রতিটি ব্লকের বিডিও,মহকুমার এসডিও-দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জেলাশাসক রশ্মি কমল। উদ্ধারকারীদের তৈরি রাখার সঙ্গে সঙ্গে করোনাভাইরাস এর কথা মাথায় রেখে প্রায় ৪০ হাজার মাস্ক,পিপিই মজুদ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে উদ্ধারকারীরা করোনা প্রতিরোধী পোশাক পরেই উদ্ধারে ঝাঁপাবেন ৷

বিভিন্ন ঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন মোহনপুর খড়গপুর-১ ব্লকগুলি সবথেকে বেশি প্রভাবিত হয়ে থাকে। তাই ওই জেলাগুলিতে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ত্রাণ শিবির গুলি তৈরি রেখে পর্যাপ্ত ত্রিপল শুকনো খাদ্য সামগ্রী মজুদ করা হয়েছে সেখানে। জেলাশাসক রশমি কমল জানিয়েছেন-এসডিআরএফ, সহ সিভিল ডিফেন্স দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

উদ্ধারকারীরা করোনা ভাইরাস এর কথা মাথায় রেখে প্রয়োজন হলে পিপিই পরে মাঠে নামবেন।এজন্য জেলাতে ৪০ হাজার মাস্ক, পিপিই, স্যানিটাইজার মজুদ করা হয়েছে ৷ এনডিআরএফ এর দলও জেলাতে হাজির হয়ে গিয়েছে ৷ খড়্গপুরে প্রস্তুত রয়েছেন তাঁরা ৷ জেলাতে পর্যাপ্ত পরিমান খাদ্য ও ত্রিপল পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ 

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ২৫ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা জমা করলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশকর্মীরা। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার দিনেশ কুমার জেলাশাসক রশ্মি কমল এর হাতে ওই চেক তুলে দেন। জেলাশাসক জানান- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের একদিনের বেতন ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে। 

এদিন পুলিশ সুপার দিনেশ কুমার বলেন, " জেলাতে করোনা পরিস্থিতিতে ২৫ হাজার ৬৯৬ জন পরিযায়ী শ্রমীক আমাদের জেলাতে প্রবেশ করেছে ৷ দাঁতনের সোনাকনিয়া সীমান্ত থেকে ৫০ হাজারের বেশি শ্রমীককে বাসে করে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে ৷ প্রতিদিন প্রায় চল্লিশটি বাসে করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরে তাদের জেলাতে পাঠানো হচ্ছে ৷ খড়্গপুরেও ট্রেনে করে রোজ প্রাই পাঁচশো শ্রমীক প্রবেশ করছেন ৷ সবাইকে লরি বা অন্যান্য গাড়িতে করে না যাওয়ার অনুরোধ করবো ৷ ধর্য ধরে অপেক্ষা করুন৷ "