শাজাহান আলি,পশ্চিম মেদিনীপুর-করোনা আবহে গৃহস্থ হিংসার বিরল নজির। অন্তস্বঃস্ত্বা অবস্থায় থাকা নিজের কিশোরী মেয়েকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে। মেয়েকে পিটিয়ে খুনের পর দেহ বস্তায় ভরে রাখল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরীর বস্তাবন্দি মৃতদেহ উদ্ধার করে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায়। 

আরও পড়ুন-'বিজেপির সঙ্গে আঁতাত', সমাজসেবীর সঙ্গে দেখা করতে এসে তৃণমূলের হেনস্থার শিকার মন্ত্রী

নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল ওই কিশোরী। পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড়ের স্থানীয় কন্তোড় উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী। গালবাঁধি গ্রামের বাসিন্দা ওই মেয়েকে পিটিয়ে খুন করেছে বাবা নাড়ুগোপাল মাঝি। নিজের বাড়ি থেকে কিশোরীর পিসির বাড়ি চন্দ্রকোনা রোডের সাতবাঁকুড়াতে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে খুন করে বাবা।

আরও পড়ুন-স্টেশনের প্লাটফর্ম থেকে যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারে রহস্য, খুনের অভিযোগ পরিবারের

পুলিশ সূত্রে খবর, নাড়ুগোপাল মাঝির প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল নবম শ্রেণির ছাত্রীর। তা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দুই পরিবারের মধ্যে অশান্তি চলছিল। কিন্তু তাঁদের প্রেমের সম্পর্কে আপত্তি ছিল ওই নিম্নবিত্ত পরিবারের। এই অবস্থায় দুই মাসের অন্তস্বঃত্ত্বা হয়ে পড়ে ওই কিশোরী। দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ আরও চরম আকার নেয়। দিনের পর দিন অশান্তি এড়াতে মেয়েকে নিয়ে তার পিসির বাড়ি গোয়ালতোড় থেকে চন্দ্রকোনায় চলে আসে মা। পারিবারিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই ফের গন্ডগোল শুরু হয়। তীব্র অশান্তির মধ্যে লাঠি দিয়ে মেয়েকে বেধড়ক মারধর করে। মেয়ের এই অবস্থা না দেখতে পেরে ঘরের ভিতরে চলে যায় মা। কিন্তু তারপরেও বাবা তার মেয়েকে লাঠিপেটা করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে মেয়েটি। মেয়ের মৃত্যু হয়েছে জানতে পেরে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির রান্না ঘরে থেকে দেহটি তুলে বস্তায় ভরে দেয়।

থমথমে কেশপুরে অভিযুক্তদের বাড়িতে তাজা বোমা, দেখুন চাঞ্চল্যকর ছবি

কিন্তু প্রতিবেশীদের মধ্যে কানাঘুষো শুরু হতেই খবর যায় চন্দ্রকোনা পুলিশ ফাঁড়িতে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাবন্দি দেহটি উদ্ধার করেছে। অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত অন্তস্বঃত্ত্বা কিশোরীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।