সঞ্জীব কুমার দুবে, পূর্ব মেদিনীপুর: করোনা আতঙ্কে নজরে পরিযায়ী শ্রমিকেরা। তাঁদের কোয়ারেন্টাইনে সেন্টারে রাখা নিয়ে এবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ধুন্ধুমারকাণ্ড পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে।

আরও পড়ুন: একদিনে পুরুলিয়ায় করোনা আক্রান্ত ৪৩ জন, রেহাই পেল না একরত্তি শিশুও

লকডাউনের বাজারে রাতারাতি কাজ হারিয়েছে সকলেই। ভিন রাজ্য়ে দলে দলে পরিযায়ী শ্রমিক ফিরছেন রাজ্যে। করোনা সংক্রমণ ছড়াবে না তো? পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক। আতঙ্ক এতটাই যে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জনবসতিপূ্র্ণ স্কুল বা অন্যকোনও সরকারি ভবনে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খুলতে বাধা দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুধু তাই নয়, কোয়ারেন্টাইনে সেন্টারে 'অব্যবস্থা'য়  ক্ষোভ বাড়ছে পরিযায়ী শ্রমিকদেরও।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার দু'জন পরিযায়ী শ্রমিক ফেরেন তমলুকের পায়রাচালী গ্রামে। একজন দিল্লি থেকে এসেছেন, আর একজন উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ থেকে। বাড়িতে ঢোকার তো প্রশ্নই নেই। নিয়মমাফিক দু'জনেরই স্থানীয় একটি স্কুলের কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধায় তাঁরা স্কুলে ঢুকতে পারেননি বলে অভিযোগ। নিরুপায় হয়ে বাড়ির কাছে ত্রিপল খাটিয়ে রাত কাটান ওই দু'জন পরিযায়ী শ্রমিক। 

আরও পড়ুন: কোভিডে অচল মমতার পিপিই হাসপাতাল, বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ চিকিৎসক নার্সদের

শনিবার সকালে খবর দেওয়া হয় স্থানীয় পঞ্চায়েতে। পঞ্চায়েতের মধ্যস্থতায় ওই দুই পরিযায়ী শ্রমিকেরা যখন স্কুলের ঢোকার চেষ্টা করেন, তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে রীতিমতো হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়! ঘটনাটি জানাজানি হতে তৎপর হন খোদ পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পার্থ ঘোষ ও তমুলকের বিডিও গোবিন্দ দাস। ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আসে, কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ঠাঁই ভিন রাজ্য ফেরত দু'জন পরিযায়ী শ্রমিক।