শাহাজাহান আলি, মেদিনীপুর: পারিবারিক সম্পর্ক বদলে গিয়েছিল প্রণয়ে। একই দড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলেন কাকীমা ও ভাসুরপো। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি পুরনো প্রেমপত্র ও নগদ টাকাও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায়। 

আরও পড়ুন: বাড়ি থেকে উদ্ধার মা ও মেয়ের দেহ, ব্যারাকপুরে জোড়া মৃত্যুতে ঘনাচ্ছে রহস্য

কয়েক বছরের দাম্পত্য জীবন। স্বামী ও দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে ভরা সংসার। কিন্তু সুখ কি অধরাই থেকে গিয়েছিল? শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পর ভাসুরপো গৌতমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন গড়বেতার গড়বেড়িয়া গ্রামের যুবতী মমতা দাস। স্থানীয় সূত্রে খবর, দু'জনের মধ্যে রীতিমতো প্রেমপত্রের আদান-প্রদান চলত। ঘটনাটি জানাজানি হতে সময় লাগেনি। পরিবারে শুরু হয় অশান্তি। অশান্তি যখন চরমে উঠত, তখন শ্বশুরবাড়ি থেকে গড়বেতায় বাপের বাড়িতে চলে আসতেন মমতা। যেমনটা এসেছিলেন মঙ্গলবার।

পুলিশ জানিয়েছেন, গড়বেতার গড়িবেড়িয়া গ্রামে বাপের বাড়িতে মমতার সঙ্গে দেখতে করতে আসেন তাঁর ভাসুরপো তথা প্রেমিক গৌতম দাস। দু'জনে সাইকেলে চেপে চলে যান স্থানীয় মালবাঁধির জঙ্গলে। তারপর? জঙ্গলের সকলের অলক্ষ্যে কাকিমা সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন ভাসুরপো! এরপর একটি গাছ থেকে একই দড়িয়ে গলায় ফাঁস গিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই প্রেমিকযুগল। বৃহস্পতিবার জঙ্গলের পথে যাতায়াতের সময়ে ঘটনাটি নজরে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়।

আরও পড়ুন: চুলেও এবার করোনাভাইরাস, সংক্রমণ ঠেকাতে নয়া দিশা দেখাচ্ছেন হাওড়ার রবিন

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গড়বেতা থানার পুলিশ। মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, আত্মহত্যা করার উদ্দেশ্যেই জঙ্গলে ঢুকেছিলেন মমতা ও গৌতম। তাই সঙ্গে নিয়েছিলেন নাইলনের দড়িও। এলাকায় শোকের ছায়া।