সঞ্জীব কুমার দুবে, পূর্ব মেদিনীপুর: 'কলকাতার নেতা ছাড়া সেই মুহুর্তে একা কিছু করার ক্ষমতা নন্দীগ্রামে মানুষের ছিল না। সবসময় আমি, আমি করবেন না। আমরা, আমরা করুন, কাজ ভালো হবে।'  শহিদ দিবসের সমাবেশ থেকে নাম না করে এবার শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করলেন ফিরহাদ হাকিম। 

আরও পড়ুন: 'চেনা বামুনের পৈতের দরকার হয় না', 'দেখা হবে লড়াইয়ের মঞ্চে', নন্দীগ্রামের সভায় মন্তব্য শুভেন্দুর

বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে যাচ্ছে, রাজ্যের দুই মন্ত্রী বাকযুদ্ধের মাত্রাও যেন ততই বাড়ছে। শহিদ দিবসে নন্দীগ্রামে দুটি পৃথক জনসভা থেকে পরস্পরকে নিশানা করলেন শুভেন্দু অধিকারী ও ফিরহাদ হাকিম। তবে একে অপরের নাম নিলেন না কেউই। লকডাউনের আগে থেকেই তৃণমূলের কোনও কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে না শুভেন্দুকে। দলের ব্যানার ছাড়াই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে নিজের পরিচয় দিচ্ছেন 'সমাজসেবী' হিসেবে। ৩১ অক্টোবরে একটি অরাজনৈতিক বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে নন্দীগ্রামে মঙ্গলবার, শহিদ দিবসে সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। একইদিনে আলাদাভাবে শহিদ সমাবেশ করল তৃণমূলও।

আরও পড়ুন: 'আমরা দাদার অনুগামী', শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে এবার পোস্টার পড়ল নদিয়ায়

স্থানীয় গোকুলনগরে হাজরাকাটায় দলের সভায় ফিরহাদ হাকিম বলেন, 'নন্দীগ্রামে মানুষের আন্দোলনের পাশে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা কেউ লিফটে বা হেলিকপ্টারে আসিনি। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় সিঁড়ি তৈরি করে দিয়েছিলেন, আমার সেই সিঁড়ি দিয়ে উঠে এসেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়া বিজেপিকে জমি পাইয়ে দেওয়া। আর বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে বাংলা-কে উত্তরপ্রদেশ বানিয়ে দেবে।' নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁর কটাক্ষ, 'বিজেপি সিংহাসনের লোভ দেখাচ্ছে। মীরজাফর ছিল, থাকবে।' এর আগে মঙ্গলবার সকালে দলের ব্য়ানার ছাড়া নন্দীগ্রাম শহিদ সমাবেশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বকে কার্যত হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বলেন, আমি নতুন লোক নই। চেনা বামুনের পৈতের দরকার পড়ে না। ক্ষমতা দম্ভ নিয়ে লড়াই করিনি। দেখা হবে লড়াইয়ে ময়দানে, দেখা হবে রাজনীতির মঞ্চে।'