ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে অস্ট্রেলিয়ার বনাঞ্চল। এ রাজ্যে জঙ্গলমহলে বিপদ হতে কতক্ষণ! পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় মানুষকে সচেতন করতে পথে নামল স্কুল পড়ুয়ারা। প্ল্যাকার্ড ঝোলানো হল গাছে। 

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় জুড়ে রয়েছে গভীর জঙ্গল। বসন্তের শুরুতে যখন গাছের পাতা ঝরে পড়ে, তখন জঙ্গলে ভিতরে খোলা জায়গায় ঝরা পাতার জড়ো করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ফলে জঙ্গলে আগুন লেগে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বস্তুত স্রেফ ঝরে যাওয়া শুকনো পাতায় আগুন লাগানোর কারণে বিপদও ঘটেছে একাধিকবার। কিন্তু স্থানীয় মানুষদের হুঁশ ফেরেনি। মেদিনীপুরে সদর ব্লকের কনকাবতী থেকে এনায়েতপুর ও গুড়গুড়িপাল থেকে ভাদুলিয়া পর্যন্ত বনাঞ্চলে বিভিন্ন গাছে প্ল্য়াকার্ড ঝুলিয়ে গিল গুড়িগুড়িপাল উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। বক্তব্য একটাই, 'জঙ্গলে আগুন লাগাবেন না'।

আরও পড়ুন: জঙ্গল সাফারির মজা নিতে চলুন গোরুমারা জাতীয় অভয়ারণ্য

গুড়গুড়িপাল উচ্চবিদ্যালয়ে ভুগোল পড়ান ব্রজদুলাল গিরি। তাঁর উৎসাহেই পড়ুয়ারা এমন অভিনব উদ্যোগে সামিল হয়েছে বলে জানা দিয়েছে। ব্রজদুলালের বক্তব্য, 'অস্ট্রেলিয়ার দাবানলের ভয়াবহ রূপ আমরা দেখেছি।  দাবানলের গ্রাস থেকে প্রকৃতি বাঁচাতে গেলে গাছপালাকে রক্ষা করতে হবে। তাই আমরা স্কুল লাগোয়া জঙ্গলে গাছে প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছে।' স্কুল পড়ুয়াদের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সকলেই।

জানা গিয়েছে, বর্ষাকালে জঙ্গলে পড়ে থাকা শুকনো পাতায় বিশেষ একধরণে মাশরুম জন্মায়।  শুকনো পাতায় যদি আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেই মাশরুমগুলি পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, জঙ্গল থেকে কাঠ,পাতা,ফল-সহ অনেক সামগ্রী সংগ্রহ করে আয় করেন বহু মানুষ। জঙ্গলে আগুন লাগালে টান পড়ে তাঁদের রুজি-রোজগারেও।