তৃণমূলের সাংগঠনিক শীর্ষ স্তরে গুরুত্ব কমছে শুভেন্দু অধিকারীর। রাজ্য যুব সভাপতির পদ থেকে শুভেন্দুকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় নিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। পাশাপাশি, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে বাদ দিয়ে সাত জনের কোর কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই, পূর্ব মেদিনীপুর তৃণমূলের জেলা সংগঠনেও রদবদল হয়। শুভেন্দু ঘনিষ্ঠকে সরিয়ে জেলা যুব সভাপতির পদে আসেন পার্থ সারথী মাইতি। তারপরই তমলুক শহরের নতুন রূপ দেখতে শুরু করেন শুভেন্দু অনুগামীরা। গোটা শহর জুড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছবি দিয়ে পোস্টার পড়েছে। অন্যদিকে, কোনও রাজনৈতিক ব্যানার ছাড়াই শুভেন্দু অধিকারীর পোস্টার পড়েছে বিভিন্ন জায়গাতে।
 
তমলুকের বিভিন্ন জায়গায় রাজ্যের শাসকদলের গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতার পোস্টার ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে। পার্থ সারথী মাইতি জেলা যুব সভাপতির পদ পাওয়ার পরই তমলুক জুড়ে অভিষেকের সমর্থনে পোস্টার। ওই পোস্টারের নীচে লেখা রয়েছে জেলা যুব সভাপতি পার্থ সারথী মাইতির নাম। অথচ, একই জায়গায় শুভেন্দু অধিকারীরও পোস্টার পড়েছে। তবে সেখানে তাঁকে সমাজসেবী বলে তুলে ধরা হয়েছে। আবার, কোনও রাজনৈতিক দলের ব্যানার ছাড়াই।

তমলুক শহরের মানিকতলা থেকে নিমতলা পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে পোস্টার ছয়লাপ। ওই রাস্তায় বিভিন্ন লাইটপোস্ট গুলিতে অভিষেকের পোস্টার লাগানো হয়েছে। পালটা হিসেবে ওই একই জায়গা শুভেন্দুর সমর্থনে পোস্টার দিয়েছেন তাঁর অনুগামীরা। তাহলে কী জেলা তৃণমূলে গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে আসছে?

যদিও, গোষ্ঠী কোন্দলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের জেলা যুব সভাপতি পার্থ সারথী মাইতি। তিনি বলেন, রাজ্য যুব সভাপতির নির্দেশ মেনেই কাজ করছেন তাঁরা। সংগঠনের শীর্ষ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতেই অভিষেকের সমর্থনে পোস্টার পড়েছে তমলুক শহর জুড়ে। 

অন্যদিকে, শুভেন্দুর অনুগামীরাও গোষ্ঠী কোন্দলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁরা বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরে মাঠে নেমে কাজ করছেন শুভেন্দু অধিকারী। মানুষেক খারাপ সময়ে সবসময় পাশে থেকেছেন তিনি। শুভেন্দুর প্রতি ভালবাসার কারনেই তাঁকে সমাজসেবী বলে পোস্টার লাগিয়েছেন অনুগামীরা।

অধিকারী গড়ে দলের নেতাদের ভিন্ন মতামত জানালেও এই ঘটনার তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। যদিও,  শাসকদল তৃণমূলের সাংগঠনিক স্তরে সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনা শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্ব অনেকটাই লাঘু করা হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।