২১শের  নির্বাচনের আগে  জঙ্গলমহলে মমতাকে বেগ দিতে পারেন শুভেন্দু। পূর্ব মেদিনীপুরের 'হাওয়া মোরগ' বলছে,আপাতত মমতার ছবি ছেড়ে নিজের ছবি লাগিয়েই  সভা করছেন এই দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা।  ইতিমধ্য়েই পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন  জায়গায় 'দীনজনের ত্রাতা' শুভেন্দু অধিকারীর একাধিক পোস্টার পড়েছে। এমনকী হুল দিবসে রাজ্য় সরকারের অনুষ্ঠানে  না গিয়ে আদিবাসীদের অন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন তিনি। যা স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি বাড়িয়েছে ঘাসফুল ব্রিগেডের।

ফের বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা, গাঙ্গুলি বাগানে কাঠগড়ায় তৃণমূল

সম্প্রতি দেখা গিয়েছে, হুল দিবসের ওই অনুষ্ঠানে শুভেন্দুর ছবি থাকলেও সেখানে যাননি তিনি। যদিও পার্থ চট্টোপাধ্যায় ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে বিপাকে পড়ে যান। কেন শুভেন্দু আসেননি তা বলতে 'ঢোক গিলতে হয়' খোদ দলের মহাসচিবকে। 'উনি  এলে  ভালো হত' গোছের কথা বলেই  চলে যান পার্থবাবু। তবে এই প্রথমবার নয়,সাম্প্রতিককালে একাধিকবার দলের থেকে দূরত্ব  বজায় রেখেছেন তমলুকের এই সাংসদ। যা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, 'হাতে ঘাসফুল থাকলেও মনে পদ্মফুল ফুটছে শুভেন্দুর।' 

মাওবাদীকে জামিন দিয়ে নেতা হিসেবে সুরক্ষা দিচ্ছে রাজ্য, ছত্রধর নিয়ে 'মমতাকে খোঁচা' কৈলাসের

যদিও শুভেন্দুর বিজেপিতে  যাওয়ার কথা আপাতত  হিমঘরে। খোদ শুভেন্দু ঘনিষ্ঠদের মুখে সেই কথা শোনা যাচ্ছে না। তবে মেদিনীপুরে যে নিজের ওজন মাপছেন শুভেন্দু তা ভালোই  উপলব্ধি  করতে পেরেছে দল। বেগতিক দেখে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে পাল্টা নামানো হয়েছে 'অধিকারী বিরোধী' মুখ হিসাবে। কিন্তু তাতে  হিতে বিপরীত হয়েছে খোদ মেদিনীপুরেই। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের পোস্টার দেওয়া একাধিক জায়গায় পাল্টা শুভেন্দুর পোস্টার  লাগিয়েছেন অনুগামীরা। সেখানে শিশির পুত্রকে সমাজসেবী  হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে। এতে তেতে উঠেছে পরিস্থিতি। 

কালীঘাটের অন্দরে এখন শুভেন্দুকে নিয়ে  জোর চর্চা। দলে এখন 'ফরেন বডি' রাজ্য়ের পরিবহণ মন্ত্রী। যার সূত্রপাত সাম্প্রতিককালে তৃণমূলের রদবদলকে ঘিরে। যেখানে শুভেন্দুকে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে সাত জনের কোর কমিটিতে রাখা হয়। সব থেকে 'টার্নিং পয়েন্ট' তৃণমূলের পূর্ব  মেদিনীপুরের জেলা সংগঠনে রদ বদল। যেখানে  শুভেন্দু ঘনিষ্ঠকে  সরিয়ে জেলা  যুব সভাপতির  পদে আসেন পার্থসারথী মাইতি।  এরপরই আগুনে ঘি পড়ে। জেলার একাধিক জায়গায় সমাজসেবী  শুভেন্দু অধিকারীর পোস্টারে ছয়লাপ হয়ে যায়। 

বেগতিক দেখে ক্ষত মেরামতে নামেন খোদ তৃণমূল নেত্রী। শিশির অধিকারীর স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন তিনি। রাজ্য় রাজনৈতিক মহল বলছে, বাবার সঙ্গে কথা বলে আদতে শুভেন্দুকে ঘাসফুলের পরিবারে আবদ্ধ রাখতে চান মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। কিন্তু মমতার সেই প্রলেপ কতটা কাজে এসেছে, তা বলবে ২১শের বিধানসভা নির্বাচন। আপাতত সেই দিকেই 'চাতক দৃষ্টি' রাজ্যবাসীর।