মন্ত্রী তো বটেই, রাজ্য়ে তৃণমূল-এর অন্যতম মুখ তিনি। কিন্তু লোকসভা ভোটে পশ্চিম মেদিনীপুরে ফল ভালো হয়নি। ফলে দলের জেলা পর্যবেক্ষকের পদ খোয়ালেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফের দায়িত্বে ফিরলেন তৃণমূল কংগ্রেস-এর রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। উল্লেখ্য, শুভেন্দুর আগে তিনিই পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূলের পর্যবেক্ষক ছিলেন। শুধু তাই নয়, দলের কেশপুরের ব্লক সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ সঞ্জয় পানকেও।

পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূল কংগ্রেস-এর সংগঠনের রদবদল ঘটে গিয়েছে সপ্তাহ দুয়েক আগেই।  খবর তেমনই।  কিন্তু তা কাকপক্ষীতেও টের পায়নি। শুক্রবার কেশপুরের ব্লক সভাপতির পদ থেকে সঞ্জয় পানকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তৃণমূল-এর জেলা সভাপতি অজিত মাইতি। নয়া ব্লক সভাপতি হয়েছেন উত্তম ত্রিপাঠী। এরপর বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। কারণ, দলের অন্দরে উত্তম ত্রিপাঠী কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা-র ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, আর সঞ্জয় পান শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী। শুভেন্দু অধিকারীকে জেলার তৃণমূল পর্যবেক্ষকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁর অনুগামীরা। 
 

 

কিন্তু গত লোকসভা ভোটে তো কেশপুর থেকে একলাখেরও বেশি ভোটে লিড পেয়েছিলেন ঘাটাল কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেব। তাহলে কেন এই রদবদল? জানা গিয়েছে, ভোটে এগিয়ে থেকেও বিশেষ লাভ হয়নি, বরং পরবর্তী সময়ে রাজ্যের অন্যান্য় জায়গার মতো কেশপুরেও বিজেপি-র দাপট বাড়ে।  দাপট এতটাই বাড়ে যে, কেশপুরে ব্লকে শাসকদলের বহু পার্টি অফিসই চলে দিয়েছিল গেরুয়াশিবিরের দখলে! অনেক জায়গায় আবার পার্টি অফিসে ঢুকতে ভয় পেতেন তৃণমূল কর্মীরা। ঘরছাড়া হয়েছিলেন অনেকেই। আসরে নামেন কেশপুরের তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা। দলের তৎকালীন ব্লক যুব সভাপতি উত্তম ত্রিপাঠিকে নিয়ে সংগঠনের হাল ধরেন তিনি। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদল হয়।  বিজেপি সক্রিয় থাকলেও, ফের লড়াইয়ে ফিরেছে তৃণমূলও। এদিকে সম্প্রতি কেশপুরের তৃণমূলের সংগঠন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন দলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর ওরফে পিকে। তৃণমূলের অন্দরে খবর, তাঁর সুপারিশেই শুভেন্দু অধিকারীকে সরিয়ে ফের সুব্রত বক্সিকে দলের পশ্চিম মেদিনীপুরের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে বিজেপির অভিনন্দন যাত্রা আটকাল পুলিশ, দেখে নেওয়ার হুমকি দিলীপের

উল্লেখ্য, কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা তৃণমূলের অন্দরে মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ  হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বস্তুত, মুকুল বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর দলবদলের জল্পনাও তৈরি হয়।  শেষপর্যন্ত অবশ্য তৃণমূলেই থেকে যান শিউলি।  তবে শুভেন্দু অধিকারীর দাপটে তৃণমূলের এই বিধায়ক দলের কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, কেশপুরের সদ্য প্রাক্তন ব্লক সভাপতি, শুভেন্দু অনুগামী সঞ্জয় পানের সঙ্গে শিউলির সাহা-র দ্বন্দ্বও সর্বজনবিদিত।  এখন তাহলে ফের জেলা রাজনীতিতে সামনে সারিতে চলে আসবেন শিউলি? জল্পনা তুঙ্গে।