বিজেপির অভিনন্দন যাত্রাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হল নন্দীগ্রামে।  নাগরিকত্ব আইনের প্রচারে অভিনন্দন মিছিল আয়োজন করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু নন্দীগ্রামে ঢোকার মূহুর্তেই সেই মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। জিপে দাঁড়িয়েই পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন বিজেপির রাজ্য় সভাপতি। চোখের সামনে পুলিশের হাতে মার খেতে দেখেন দলের নেতা কর্মীদের। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। 

ভর্তির নামে বেহালার স্কুলে প্রতারণা, অভিযুক্তকে পেয়ে বেধড়ক মারধর

বিজেপির অভিযোগ, এদিন মিছিলের শুরুতেই জমায়েত ভেঙে দেয় পুলিশ। নন্দীগ্রামে ঢোকার পথে গাড়ি আটকে দেওয়া হয় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সহ রাজ্য সস্পাদক সায়ন্তন বসুর। পুলিশের তরফে জানানো হয়,  কর্মসূচির কোনও অনুমতি  নেয়নি দল। সেকারণেই এই মিছিল আটকে দেওয়া হয়েছে। শনিবার  দুপুরে নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়া অঞ্চলে দিলীপ ঘোষের গাড়ি থামিয়ে দিলে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা শুরু হয়। নিমেষেই বিজেপি  কর্মীদের লাঠিপেটা শুরু করে পুলিশ। 

মুখ দেখালেই প্রবেশের অনুমতি, নয়া বিধি কলকাতা বিমানবন্দরে

সেই সময় গাড়িতে দাঁড়িয়ে মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন,  'আমি চোখের সামনে দাঁড়িয়ে দেখলাম, শাসকের অতি প্রভুভক্ত কিছু অফিসার আমার জেলা সভাপতিকে কলার ধরে  টেনে নিয়ে মারলেন। মনে রাখবেন আমি কিন্তু কিছু ভুলি  না। অন্তত আমার কর্মীদের গায়ে  কেউ হাত দিলে সেটাও ভুলি  না। এর হিসাব আমরা এক সময় নেব।'  

পাশে দাঁডি়য়ে পথ ছাড়ার জন্য সায়ন্তন বসু বলেন, পুলিশকে অনুরোধ করছি এগিয়ে যেতে দেওয়ার জন্য। তবে দিলীপ  ঘোষ একা  নন। কদিন  আগেই হুগলিতে একই সুর শোনা যায় দলের নেতা সায়ন্তন বসুর গলায়। হুগলির  সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্য়ায়ের  উপস্থিতিতে তিনি বলেন,'আপনারা অভিনন্দন যাত্রার পারমিশন দেননি । আমি কুচবিহারের মাথাভাঙ্গা যেতে গেছি, আমায় আটকেছেন। বালুরঘাট গেছি আটকানোর চেষ্টা হয়েছে। মেদিনীপুরে আটকানোর চেষ্টা হয়েছে, কতদিন আটকাবেন ? পুলিশবন্ধুরা জেনে রাখুন, দিন কিন্তু আমাদেরও আসবে।  যেদিন আসবে, সেদিন সকালে চুচূড়া, বিকেলে দমদম আর রাতে বারুইপুর দেখিয়ে ছাড়ব । জীবনটা ট্রেনে আর বাসেই কেটে যাবে ।'

রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তাল কামারহাটি, একাধিক গাড়িতে আগুন,জখম পুলিশ

রাজ্য়ে কদিন আগেই ঘুরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর কলকাতা সফর নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। তিনি যে নাগরিকত্ব আইনের পথ থেকে সরছেন না তা ভালোভাবেই রাজ্য় বিজেপির নেতাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকী প্রয়োজনে সিএএ নিয়ে কলকাতায় ব্রিগেডেও অংশ নিতে তাঁর আপত্তি নেই। রাজ্য় নেতারা ডাকলে তিনি যে শহরে আসতে পিছপা হবেন না, তা ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন মোদী। সিএএ নিয়ে অসমের পাশাাপাশি অগ্নিগর্ভ হয়েছে রাজ্য়। নিজেই সিএএ হতে দেবেন না বলে পথে নেমেছেন মুখ্য়মন্ত্রী। নিজেই জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীকে সিএএ নিয়ে রোল ব্যাক করতে বলেছেন তিনি।  যদিও  রাজ্য়ে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সায়ন্তনদের এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।