শাজাহান আলি, মেদিনীপুর:  করোনা আতঙ্কে বিপর্যস্ত জনজীবন, লকডাউনে ঘরবন্দি সাধারণ মানুষ। বিদ্যাসাগরের মৃত্যুবার্ষিকীতে শুনসান মেদিনীপুরের বীরভূসিংহ গ্রাম। জন্মভিটে গিয়ে এবার আর তাঁকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের সুযোগ পেলেন না পর্যটকরা। সামাজিক দূরত্ব মেনে মূর্তিতে মাল্যদান করলেন বিদ্যাসাগর স্মৃতিরক্ষা কমিটির গুটিকয়েক সদস্য।

আরও পড়ুন: নাবালকের ট্র্য়াক্টর উল্টে মৃত্যু মহিলার, 'বেফাঁস' মন্তব্য় করায় গণপ্রহার বিজেপি নেতাকে

১২৯ বছর! ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই মধ্যরাতে উত্তর কলকাতার বাদুড়বাগান এলাকায় নিজের বাড়িতে প্রয়াত হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁকে দাহ করা হয় নিমতলা শ্মশানে। কিন্তু সমাজ জীবনে তাঁর অবদান কি বাঙালি কোনওদিন ভুলতে পারবে! প্রতি বছর বিদ্যাসাগরের মৃত্যুদিবসে নানাধরণের অনুষ্ঠান হয় তাঁর জন্মভিটে পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে। চলে নরনারায়ণ সেবা। গ্রামে ভিড় জমান বহু পর্যটক, আসেন গুণীজনেরাও।

আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কায় সর্তকতা জারি

গত বছর ২৯ জুলাই বীরসিংহ গ্রামে গিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি উদ্যোগে আয়োজনে কোনও খামতি ছিল না। উন্নয়নে ছোঁয়া লেগেছিল গ্রামে। আর এবার? পর্যটক বা অতিথিরা তো দূর অস্থ, লকডাউনের কারণে বাড়ির বাইরে পা রাখেননি স্থানীয় বাসিন্দারাও। ফাঁকা রাস্তাঘাট, বন্ধ দোকানপাঠ। এরইমধ্যে মৃত্যুদিবসে বিদ্যাসাগরের জন্মভিটেতে যান ঘাটালে বিধায়ক, পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ সরকারি এক প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নমো নমো করা হয় অনুষ্ঠান।  মুখে মাস্ক পরে একে একে গিয়ে মহান এই শিক্ষাবর্তী ও সমাজ সংস্কারকের মূর্তি মাল্যদান সকলে।