সঞ্জীব কুমার দুবে, পূর্ব মেদিনীপুর: লকডাউনের জেরে কাজ হারিয়েছেন স্বামী। অভাব বাড়ছে সংসারে। রোজগারের আশায় এবার টোটো নিয়ে রাস্তায় নামলেন এক গৃহবধূ। প্রতিদিন সংসার কাজ সামালে বেরিয়ে পড়েন সাতসকালে।

আরও পড়ুন: রাজ্যে বাড়ছে করোনা দাপট, আক্রান্ত হলেন আরও এক তৃণমূল বিধায়ক

পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারের বরগোদা গ্রামের বাসিন্দা অরুণ কুমার বর্মন। পরিবার বলতে স্ত্রী, তিন মেয়ে আর শ্বাশুড়ি। একচিলতে ঘরে গাদাগাদি করে থাকেন। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরানো দশা। লকডাউনের আগে ভ্যান চালাতেন অরুণ।  যা রোজগার করতেন, তাই দিয়ে দিন কেটে যেত। তবে অভাব মিটত না। বড় মেয়ে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী, আর বাকি দুই মেয়ে নবম ও ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম অবস্থা, তার উপর মেয়েদের পড়াশোনা খরচ! স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে খিটিমিটি লেগেই থাকত। পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ নেন অরুণের স্ত্রী নিয়তি। এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছি কোনওমতে। কিন্তু করোনা আতঙ্ক উলটপাটল কর দিল সবকিছুই। 

আরও পড়ুন: চোপড়া ছাত্রী মৃত্যুকাণ্ডে মূল অভিযুক্তের অস্বাভাবিক মৃত্যু, পুকুরে ভেসে উঠল দেহ

করোনা সতর্কতায় লকডাউন চলেছে তিনমাস। মাঝে কয়েকদিন আনলক পর্বে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা এতটাই বেড়েছে, যে ফের লকডাউন জারি হয়েছে বহু জায়গায়। আপাতত কাজ হারিয়ে বাড়িতেই বসে রয়েছে দিনমজুর অরুণ মাইতি। সংসার চলবে কী করে? মেয়েরা পড়াশোনাই বা চলবে কী করে? লোকেরা বাড়ি পরিচারিকার কাজ তো করতেন, এবার টোটো চালাতে শুরু করেছেন নিয়তি। সকাল থেকে সন্ধে, তমলুক-মেচেদা-ময়না-সহ একাধিক রুটে যাত্রীদের নিয়ে যান তিনি।  ছাপোষা ওই গৃহবধূ সাফ কথা,  মেয়েরা যদি দেশ চালাতে পারে, তাহলে আমি কেন টোটো চালাতে পারবো না। তবে কোনোদিনই ভাবেনি যে আমাকে টোটো চালাতে হবে। কষ্ট হলেও ব্যাংকের ঋণ শোধ করে সংসার চালিয়ে অনেকটাই খুশিতে আছি।'