গত বেশ কয়েক বছর ধরেই বেশ পানামা পেপার্স মামলায় জড়িয়ে তহবিল তছরুপের দায়ে কারাগারে বন্দি প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। সম্প্রতি দারুণ অসুস্থতায় তাঁর শরীর ক্রমে ভেঙে পড়ছিল। কিন্তু বর্তমান পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তা মানতে চাননি। সোমবার লাহোর কোর্ট নওয়াজ শরিফকে লন্ডনে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে ভাই শাহবাজ শরিফ ও ব্যক্তিগত ডাক্তার আদনান খান-কে নিয়ে লন্ডন উড়ে গেলেন নওয়াজ।

এদিন সকালে দোহা থেকে একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স আসে লাহোরের হজ টার্মিনালে। এতে করেই নিয়েই নওয়াজ শরিফ লন্ডন রওনা হয়েছেন। এই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটির মধ্যে একটি ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিট বা আইসিইউ রয়েছে। রয়েছে একটি অপারেশন থিয়েটারও। এদিন অসুস্থ নওয়াজ শরিফকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরপে আসেন পিএমএল(এন) দলের বেশ কিছু নেতা-কর্মী।  

সপ্তাহতিনেক আগে ব্যাক্তিগত ডাক্তার আদনান খানই কারাগারে নওয়াজ শরিফ-কে দেখে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করার নিদান দিয়েছিলেন। সেই সময় পাক সেনার ডাক্তাররাও জানান ইমিউনিটি সিনড্রোমে ভুগছেন নওয়াজ। হুহু করে নামছে তাঁর শরীরে প্লেটলেটের পরিমাণ। নওয়াজের পক্ষ থেকে লন্ডনে চিকিৎসা করতে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাওয়া হয়।

আদালত চিকিৎসার শর্তে তাঁকে জামিন দিতে রাজি হলেও তা মানতে চায়নি ইমরান খান মন্ত্রীসভা। তারা দাবি করেছিল পাকিস্তানের সরকারি হাসপাতালে নওয়াদজের চিকিৎসা করানোর। পরে ঠিক হয়েছিল গত সপ্তাহের সোমবারই তিনি লন্ডন যাবেন। কিন্তু নো ফ্লাই লিস্ট থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া নিয়ে বিবিন্ন শর্ত চাপায় ইমরান মন্ত্রীসভা। অবশেষে গত একসপ্তাহ ধরে আদালতে মামলা লড়ে শর্তহীন যাত্রার অনুমতি মেলে সোমবার। লন্ডনের চার্লস টাউন ক্লিনিকে নওযাজ শরিফকে ভর্তি করা হবে বলে জানা গিয়েছে।  

ইমরান খান অবশ্য বরাবরই নওয়াজের উপর প্রতিহিংসা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছএন। কিন্তু প্রাক্তন প্রদানমন্ত্রীর প্রতি ইমরান প্রশাসনের এই অমানবিক আচরণ পাকিস্তানি জনসাধারণের মনে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে। এমনিতেই দিন কয়েক আগেই মৌলানা ফজলুল খানের আজাদি মার্চে অনেকটাই ভিত আলগা হয়ে গিয়েছে ইমরান সরকারের। তার উপর অর্থনৈতিক মন্দাকে কোনওভাবেই চাপা দিতে পারছে এই সরকার।