লক্ষ লক্ষ দল বেঁধে আকাশপথে উড়ে আসছে পাকিস্তানের শহর করাচি লক্ষ করে। আরও কয়েক লক্ষে ছেয়ে রয়েছে আকাশ। কারোর কারোর বাড়ির ছাদেও নেমে পড়ছে। না, ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান নয়। আচমকাই করাচি-তে এখন হামলা চালিয়েছে লক্ষ লক্ষ পঙ্গপাল। সাধারণত শস্যের ব্যাপক ক্ষতি করে এই পোকা। কিন্তু আপাতত শহরেই ঘাটি গেড়েছে তারা।   

শহরবাসীর অনেকেই এই হামলায় আতঙ্কিত। সোশ্য়াল মিডিয়ায় করাচির নেটিজেনরা সেইসব পঙ্গপালের ছবি ভিডিও পোস্ট করেছেন। মানুষের কোনও ক্ষতি করে কিনা, তাই নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। কীভাবে এদের হাত থেকে মুক্ত হওয়া যাবে সেই নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সরকার কিছু করছে না বলে ক্ষোভ-ও রয়েছে। আর সেই ক্ষোভের আগুনেই ঘি দিয়েছেন পাকিস্তানের এক মন্ত্রী।        

এমনিতেই ভুলভাল মন্তব্য করায় বেশ সুনাম রয়েছে পাকিস্তানের মন্ত্রীদের। ইমরান মন্ত্রীসবার চৌধুরি ফাওয়াদ হুসেন, শেখ রশিদ আহমেদ-দের সেই দলে এবার নাম লেখালেন পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের কৃষিমন্ত্রী ইসমাইল রাহু। সোশ্য়াল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিও-য় তাঁকে করাচিবাসীর উদ্দেশ্যে বলতে শোনা গিয়েছে, পঙ্গপালদের বার্বিকিউ করতে, কিংবা বিরিয়ানি রান্না করে খেয়ে ফেলতে। কড়াই পঙ্গপাল রেসিপিটাও মন্দ লাগবে না। পঙ্গপাল দিয়ে আরও অনেক রকম পদই রান্না করা যায় বলেও রসিকতা করেন তিনি।

এই ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ করাচিবাসী। শহরে যেখানে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে এতটা অসংবেদনশীলের মতো কথা একজন মন্ত্রী কীকরে বলেন, সেই প্রশ্ন উঠছে। তবে ইসমাইল রাহু রসিকতার সঙ্গে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, পঙ্গপাল থেকে শহরের লোকদের কোনও ভয় নেই। এরা ফসলের ক্ষতি করে, মানুষের নয়। গ্রাম হলে সত্যিই ভয়ের বিষয় ছিল।      

কিন্তু হঠাৎ করাচি-তে পঙ্গপাল হানা দিল কেন? পাক জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও গবেষণা মন্ত্রকের অধীন বন সংরক্ষণ বিভাগের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। গ্রীষ্ম-বর্ষাকাল এদের প্রজননকাল। এরপর এরা বালুচিস্তানের মরুভূমির দিকে উড়ে যায়। পথে করাচিতে কটাদিন জিরিয়ে নিচ্ছে।