ভারতের মতোই প্রতিদিন পাকিস্তানে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের শিার হয়েছেন ১,৯৩২ জন। প্রাণ হারিয়েছেন ৪৬ জন। ফলে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৫,৮৯৮। এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানে করোনা প্রাণ কেড়েছে ৯৮৫ জনের। 

দেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সিন্ধ প্রদেশের। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭,৯৪৭। এরপরেই রয়েছে পঞ্জাব। এই প্রদেশে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬,৬৮৫ জন। খাবার পাখতুনখাওয়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬,৫৫৪। বালোচিস্তামে ২,৮৮৫। ইসলামাবাদে ১,১৩৮ জন করোনা রোগীর সন্ধান মিলেছে। গলিগিট বালতিস্তামে সংখ্যাট ৫৫৬ এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে করোনা আক্রান্ত ১৩৩ জন। 

পাক স্বাস্থ্যমন্ত্রক দাবি করেছে, সেদেশে এখনও পর্যন্ত ৪,১৪,২৫৪ করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তারমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই হয়েছে ১৩,৯৬২টি। যদিও দেশের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের করুণ ছবি ফুটে উঠছে বারবার। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যারা সামনের থেকে লড়ছেন সেইসব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরই জুটছে না সামান্য নিরাপত্তা।

এমনই এক চিত্র ধরা পড়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজাফ্ফরাবাদে শেখ খালিফা বিন জাইদ কমবাইন্ড মিলিটারি হাসপাতাল চত্বরে। এখানে স্বাস্থ্য কর্মীদের যে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) কিট দেওয়া হয়েছে তা আগে থেকেই ব্যবহৃত বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছু কিছু পিপিই কিটে আবার পানের পিক লেগে থাকতেও দেখা যায়। 

 

 

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়, "রাওলপিন্ডির মিলিটারি হাসপাতাল থেকে এখানে ৩ লক্ষ পিপিই কিট পাঠান হয়েছে। কিন্তু এই কিটগুলি ইতিমধ্যে ব্যবহৃত। কিছু কিছু মাস্কে লাল দাগ পাওয়া গিয়েছে। ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে এগুলি পানের দাগ"

ট্যুইটারে আরও লেখা হয়েছে, "হাসপাতালের প্রটোকল মেনে ওই কিটগুলি নষ্ট করে ফেলা হয়েছে, যাতে সংক্রমণ হাসপাতালে না ছড়িয়ে পড়ে। এটা খুবই লজ্জার, চিনের তৈরি গুণগত  দিক থেকে নিম্নমানের কিটগুলি এভাবে পাঠান হচ্ছে, এই অঞ্চল এখন পাকিস্তানের ডাম্পিং গ্রাউন্ড হয়ে গিয়েছে।"

২০০৫ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষের চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালটি বানিয়ে দেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ খালিফা আজায় আল লায়ান।