প্রাক্তন ক্রিকেটার ও পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্যের বিষয়ে একটি চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। জানা যাচ্ছে, প্রায় অন্ধ হতে বসেছেন পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী এই ক্রিকেটার।

প্রাক্তন ক্রিকেটার ও পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্যের বিষয়ে একটি চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। জানা যাচ্ছে, প্রায় অন্ধ হতে বসেছেন পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী এই ক্রিকেটার। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাঁর চোখের অবস্থা গুরুতর বলে বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতে দাখিল করা একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ইমরান খান তাঁর ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদি এবং বিচারপতি শাহিদ বিলাল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে মামলাটি শুনানি হয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

শুনানি চলাকালীন, আদালত সরকারকে ১৬ ফেব্রুয়ারির আগে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের দ্বারা পরীক্ষা সহ ইমরান খানের সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার নির্দেশ দেয়। আদালত নিযুক্ত অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু), ব্যারিস্টার সালমান সফদার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার পর একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেন। সেই রিপোর্ট অনুসারে, ইমরান খানের ডান চোখে এখন মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট রয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে যে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ইমরান খানের উভয় চোখের দৃষ্টি স্বাভাবিক ছিল। এরপর, তিনি ক্রমাগত ঝাপসা দেখতে শুরু করেন। ইমরান খান বেশ কয়েকবার কারা প্রশাসনের কাছে এনিয়ে জানিয়েছেন। কিন্তু কোনও চিকিৎসা করা হয়নি। পরে হঠাৎ করেই তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে যায়।

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) এর একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ইমরানের চোখে রক্ত ​​জমাট বাঁধার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যার ফলে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট আছে। সংবাদমাধ্যম হাম অনুসারে, চিকিৎসা সংক্রান্ত উদ্বেগের পাশাপাশি রিপোর্টে বিধিনিষেধ এবং দীর্ঘায়িত নির্জন কারাবাসের একটি বৃহত্তর চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে যে ইমরান খানকে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে, যা তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলছে। গরম ও মশার কারণে তাঁর ঘুমের সমস্যা হয়। নথিপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে যে পাঁচ মাস পরেও আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গেও দেখা করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত ডাক্তারদেরও প্রবেশাধিকার অস্বীকার করা হয়েছে।

সবটা জানার পরে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন যে রাষ্ট্র যে কোনও বন্দির স্বাস্থ্যের জন্য দায়ী এবং তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের কর্তব্য। সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় যাতে ইমরান খান তাঁর ছেলে কাসিম এবং সুলেমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেন। ব্যক্তিগত ডাক্তাররাও যাতে ইমরানকে দেখতে যেতে পারেন তারও নির্দেশ দেয়।

শুনানির পর ইমরান খানের বোন আলেমা খান কান্নায় ভেঙে পড়লে আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। এই ঘটনাটি পাকিস্তানের রাজনীতিতে মামলাটি নিয়ে বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে। শুনানির সময় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর বেশ কয়েকজন নেতাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।