ফের বড়সড় বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তান। জানা গিয়েছে মঙ্গলবার সকালে পেশোয়ারের দির কলোনি নামে এক কলোনির একটি মাদ্রাসায় ওই শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিশুসহ অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আরও ৭০ জন মতো গুরুতর আহত হয়েছেন। ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি ব্যবহার করেই এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে পাক পুলিশ জানিয়েছে। তবে কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটালো তা জানা যায়নি।

পাক পুলিশের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আক্রান্ত মাদ্রাসাটিতে মূলত প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণ করেন। মঙ্গলবার সকালে সেখানে কোরান পাঠের ক্লাস চলছিল। অনেকেই মাদ্রাসার ভিতর পড়াশোনা করছিলেন। সেই সময়ই এক অজ্ঞাত ব্যক্তি মাদ্রাসার ভিতরে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ নিয়ে এসেছিল। সেই ব্যাগের মধ্যেই ভরা ছিল বিস্ফোরক। এই শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচ কেজি বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অনুমান পাক পুলিশের। এরপরই ওই জোরালো বিস্ফোরণ ঘটে।

নিকটবর্তী লেডি রিডিং হাসপাতালের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই বিস্ফোরণের অভিঘাতে তাঁদের হিসাব অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত সাতজন মারা গিয়েছেন এবং ৭০ জনের মতো মানুষকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। হাসপাতালের সুপার তারিক বুরকি জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ৪ জনই শিশু।

এই নিয়ে গত কয়েকদিনে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে পর পর বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। রবিবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বালুচিস্তান প্রদেশের রাজধানীতে একই রকমের একটি আইইডি বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেইসময় শহরের অন্য প্রান্তে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একটি বিশাল উন্মুক্ত-সমাবেশ চলছিল। তার আগে গত ২১ অক্টোবর, পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের একটি চারতলা ভবনে আরও একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ২০ জন মতো আহত হয়েছিলেন।