সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলছে পাকিস্তেন প্যাসেঞ্জার ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা। সোমবার ভোরতারে পাকিস্তানের দক্ষিণ সিন্ধু প্রদেশে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মুখোমুখী সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৭০ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা গেছে। রেল কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকাজের জন্য পাক সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীকে তলব করেছে। পাকিস্তানের রেলওয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন করাচি থেকে সারগোধা যাওয়ার জন্য মিল্লাট এক্সপ্রেসটি লাইনচ্যুত হয়ে পড়েছিল পাশের রেল লাইনের ওপর। তখনই উল্টোদিক থেকে আসছিল  তীব্র গতিতে আসছিল স্যার সৈয়দ এক্সপ্রেস। সেই সময়ই দুটি ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনাটি ঘটে সিন্ধুর ঘোটকি জেলার ধরকিতে। 

ভয়াবহ এই ট্রেন দুর্ঘটনার পরই ঘোটকি, ধরকি, ওবারো, মিরপুর ম্যাথেলোর হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। আহতদের দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধারকরে নিয়ে যাওয়ার হয় চিকিৎসার জন্য এখনও পর্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।  ট্রেন দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেছেন এই দুর্ঘটনায় তিনি হতবার। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন তিনি।

ট্রেন দুর্ঘটনার পরে উদ্ধারকাজে গাফিলতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দুর্ঘটনাগ্রস্তরা। স্যার সৈয়দ এক্সপ্রেসের ট্রেনের চালক আইজাজ শাহ বলেছেন যে সংঘর্ষের প্রায় ২ ঘণ্টা পরে তাঁকে স্থানীয়রা উদ্ধার করেছে। ট্রেনটি স্বাভাবিক গতিতে চলছিল। কিন্ত মিল্লাট এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনাগ্রস্ত বগিগুলি তিনি দেখতে পাননি। দুটি ট্রেনের একাধিক বগি একটির ওপর আরএকটি উঠে পড়ে রয়েছে। তাই সেখান থেকে উদ্ধারকার সমস্যা দেখা দিয়েছে। 

জিও নিউজের খবর অনুযায়ী দুর্ঘটনায় ১৩-১৪টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। আর ৬-৮ জনের এখনও পর্যন্ত কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করাটাই এখন চ্যালেঞ্জ। ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে সেনা বাহিনী।  বগি কেটে বার করা  হবে আটকে পড়া যাত্রীদের।  হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে দুটি ট্রেনে ১ হাজারেরও বেশি যাত্রী ছিল। দুটি ট্রেনের সমস্ত যাত্রী ও কর্মীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। তবে রেল ট্র্যাক আর নেটওয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছেন। প্রাক্তন এক রেল আধিকর্তা জানিয়েছেন কিছু কিছু এলাকায় এখনই দেশভাগের আগের রেল ট্র্যাক আর নেওটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। যা থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা সর্বদা থেকেই যায়।