চরবৃত্তি এবং সন্ত্রাসের দায়ে প্রাক্তন ভারতীয় নৌসেনা অফিসার কুলভূষণ যাদবকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছিল পাকিস্তান। দ্য হেগ-এর আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, তাঁর মৃত্যুদণ্ড পুনরায় বিচার-বিবেচনা করে দেখতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতের তরফ থেকে পাকিস্তান সরকারকে নির্দেশ দেয় যে, তাঁকে কনস্যুলার অ্যাক্সেস এবং অন্যান্য যাবতীয় আইনি সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। 

আর এর ঠিক একদিনের মধ্যেই শুক্রবার পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, কুলভূষণ যাদবকে যাবতীয় আইনী সহায়তার পাশাপাশি কনস্যুলার অ্যাক্সেসও প্রদান  করা হবে। প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতের রায় ভারতের পক্ষেই গিয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রের। তবে এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতের কাছে ভারতের দাবি ছিল কুলভূষণ যাদবকে বেকসুর খালাস করে পুনরায় দেশে ফেরাতে হবে। ভারতের এই দাবি যদিও মেনে নেয়নি আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালত।

অভিনন্দনের মতোই কি দেশে ফিরবেন কুলভূষণ, জানা যাবে ১৭ জুলাই

কুলভূষণ মামলায় বার বার ভিয়েনা চুক্তি লঙ্ঘন পাকিস্তানের! রায়ের অপেক্ষায় ভারত

২০১৭ সালে যখন কুলভূষণ যাদবকে চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় পাকিস্তান, তখন সেই বছরই এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে দ্বারস্থ হয়েছিল ভারত। সেই সময়ে ভারতের তরফে আরও অভিযোগ জানানো হয় যে, ভিয়েনা চুক্তি লঙ্ঘন করে, কুলভূষণকে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। তাঁকে গ্রেফতারের খবর পাওয়ার পর ভারতীয় দূতাবাসের তরফ থেকে কুলভূষণকে বার-বার যোগাযোগ করতে চাওয়া হলেও অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান। এমনকী, কুলভূষণ নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী নিজের মামলা লড়ার জন্য কোনও আইনজীবীও নিতে পারেননি। অবশেষে আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতের দেওয়া রায়ের একদিন পরই কুলভূষণকে কনস্যুলার অ্যাক্সেস-সহ যাবতীয় আইনি সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করল পাকিস্তান সরকার।