ক্রিকেট জীবনে ইমরান খান পরিচিত ছিলেন লেডি কিলার হিসেবে। তাঁর জীবনে নারীর ও সেক্স স্ক্যান্ডালের সংখ্যাও  নেহাত কম নয়। সীতা হোয়াইটের মেয়ের বাবা হিসেবে তাঁর দিকে আঙুল ওঠা হোক কিংবা প্রাক্তন স্ত্রী মরিয়ম-এর আত্মজীবনীতে বিস্ময়কর দাবি - সবই দেখা হয়ে গিয়েছে তাঁর। কিন্তু এইবার যখন তাঁর প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার বেশ টলমল অবস্থায়, সেই সময় ফের এক সেক্স স্ক্যান্ডাল নিয়ে প্রবল অস্বস্তি-তে পড়লেন তিনি। তবে এইবার সরাসরি আঙুল তাঁর দিকে নয়, উঠেছে তাঁর ক্যাবিনেটের রেলমন্ত্রী শেখ রশিদ-এর বিরুদ্ধে।  

সম্প্রতি পাক সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিও-য় এক মহিলার সঙ্গে তাঁকে ভিডিও কল করতে দেখা গিয়েছে। যেখানে ওই মহিলা দাবি করেছেন পাক রেলমন্ত্রী তাঁকে নগ্ন ছবি-ভিডিও পাঠাতেন। ওই মহিলা বলেন, 'আপনি নগ্ন হয়ে আমায় দেখাতেন। ভিডিওয় খারাপ খারাপ কাজ করতেন'। জানা গিয়েছে ওই মহিলা আর কেউ নন, পাকিস্তানের বিতর্কিত টিকটক স্টার হারিম শাহ।

সম্প্রতি ভিডিওটি হারিমেরই সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়। স্বাভাবিকভাবেই মুহূর্তের মধ্যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়। পরে হারিম ভিডিওটি সরিয়ে দেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন ভিডিওটি সত্যিকারের, তাঁর এক বন্ধু ভিডিওটি ফাঁস করে দিয়েছেন। হারিম পোস্টটি মুছে দিলেও ভিডিওটি নেটে বহু মানুষ শেয়ার করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে হারিম আরও একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেছেন, কারোর মর্যাদা ক্ষুন্ন করার মতো সময় তাঁর হাতে নেই। নেটিজেনরা, যারা আগের ভিডিওটি নিয়ে চর্চা করছে, এই ধরণের কাজ তারাই করে থাকে।

আরও পড়ুন - ফের সেক্স স্ক্যান্ডাল, নগ্ন ভিডিও পাঠিয়ে ইমরানের মুখ পোড়ালেন পাক রেলমন্ত্রী

তাতে বিতর্ক অবশ্য থামেনি। পাক সংবাদমাধ্যমে হারিম দাবি করেছেন, ভিডিওটি ফাঁস হওয়ার পর থেকে তাকে প্রাণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি আপাতত আজারবাইজান-এ রয়েছেন। সেখান থেকে পাকিস্তানে না ফিরে আপাতত কানাডা যাবেন বলে ঠিক করেছেন এই পাক টিকটক তারকা।

কারা তাঁকে হুমকি দিচ্ছে, তা অবশ্য বলতে চাননি হারিম। তবে তিনি জানিয়েছেন, তিনি ইমরান খানের ভক্ত। তাঁর পরিবারের অনেক সদস্যই ইমরানের দল পিটিআই-এর সক্রিয় সদস্য। আর রেলমন্ত্রী শেখ রশিদ তাঁর আত্মীয়ের মতো। ভিডিওটি ফাঁস হয়েছিল দিন কয়েক আগে। নতুন বছরের দুটি দিন চলে গেলেও তাতে ধামাচাপা পড়েনি। বরং ক্রমে চাপ বাড়ছে ইমরান প্রশাসনের উপর। এই বিষয়ে এখনও পাক প্রধানমন্ত্রী কিছুই বলেননি।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল ইমরান প্রশাসনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে হারিম এর আগেও ফেলেছেন। এর আগে পাকিস্তানের বিদেশ দপ্তরের এক কনফারেন্স রুমের ভিতর থেকে তিনি টিকটক ভিডিও করেছিলেন। মহম্মদ আলি জিন্নার প্রতিকৃতির সামনে রাখা সভাপতির চেয়ারে বসতেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তাই নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। সেই সঙ্গে শেখ রশিদ-ও ক্যাট ফিল্টার অন করে সরকারি বৈঠক করা থেকে শুরু করে নরেন্দ্র মোদীর নামে বিষোদ্গার করতে গিয়ে শক খাওয়া - বিভিন্ন সময়ই হাস্যাাস্পদ হয়েছেন। ইমরান তাঁর এই ভক্ত ও মন্ত্রীর কেলেঙ্কারি কীভাবে সামাল দেন, সেটাই দেখার।