পাকিস্তানে মসনদে ক্রমেই ইমরান খান সরকারকে ছাড়িয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছে পাক সেনাবাহিনীর স্বৈরাচারী চেহারাটা। এবার পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এর প্রধানমন্ত্রী ফারুক হায়দার খানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মামলা করা হল। এই পিএমএল (এন) নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দলনেতা নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সমালোচনা করে করা সাম্প্রতিক একটি অনলাইন ভাষণ শুনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে 'ষড়যন্ত্র' করছিলেন। এই  করার জন্য লাহোরে মামলা করা হয়েছে, যেখানে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সমালোচনা করেছেন।

ইসলামাবাদ সূত্রে খবর, শুধু ফারুক হায়দার খানের বিরুদ্ধেই নয় পিএমএল(এন) সুপ্রিমো নওয়াজ শরীফ এবং মরিয়ম নওয়াজ, রানা সানাউল্লাহ, আহসান ইকবাল, শহীদ খাকান আব্বাসি-সহ আরও বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে লাহোরের শাহদারা থানায় পাকিস্তান ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে 'ষড়যন্ত্র' করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এফআইআর-এ তাঁদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি দণ্ডবিধি অনুসারে সাইবার সন্ত্রাসবাদ, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ষড়যন্ত্র, পাকিস্তান তৈরির নিন্দা, দেশের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত, দেশদ্রোহিতা এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা প্রচার সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা করা হয়েছে।

এফআইআর-এর বয়ানে নওয়াজ শরীফ সম্পর্কে বলা হয়েছে, লন্ডনে চিকিত্সা করানোর বদলে উস্কানিমূলক মন্তব্য করে পাকিস্তান ও পাক সেনাবাহিনীর বদনাম করার জন্য পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন। তাঁর বক্তৃতার মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের থেকে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করা এবং একে একটি দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী তথা নওয়াজ শরীফের 'বন্ধু' নরেন্দ্র মোদীকে সহায়তা করার জন্যই নাকি এই কাজ করা হচ্ছে বলে দাবি। । ইমরান সরকারের দাবি, গত ২০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর দেওয়া ভাষণে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টতই প্রতিবেশী ভারতের নীতিগুলিকে সমর্থন করেছেন।