পাকিস্তানে কি গৃহযুদ্ধ বেধেছে? এক পাক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড টুইটারে জানিয়েছে সিন্ধ প্রদেশের পুলিশ এবং পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মধ্যে একপ্রস্থ গুলিবিনিময়ের পর করাচিতে 'গৃহযুদ্ধ' শুরু হয়েছে। সংঘর্ষে করাচি পুলিশের ১০ জন কর্মীর মৃত্য়ুর খবরও দিয়েছে তারা। তবে কোনও তথ্যই নিশ্চিত করা যায়নি। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ডন-এও এরকম কোনও প্রতিবেদন নেই। তবে এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাক সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া।

দিন দুই আগে পাক বন্দর শহর করাচি-তে ইমরান খান প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছিল বিরোধী দলগুলি। তারপরই গ্রেফতার করা হয়েছিল প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের জামাই অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মহম্মদ সফদরকে। পরে অবশ্য  আদালত তাঁকে জামিনে মুক্তি দেয়। কিন্তু, নওয়াজের কন্যা মরিয়ম নওয়াজ অভিযোগ করেছিলেন রীতিমতো হোটেলের ঘরের দরজা ভেঙে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সফদর-কে।  

সিন্ধ পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশ প্রথমে সফদরকে গ্রেফতার করতে অস্বীকার করেছিল। কিন্তু, পাক রেঞ্জাররা সিন্ধ পুলিশের প্রধান মোস্তাক মেহের-কে কিডন্যাপ করে নিয়ে গিয়ে সফদর-কে গ্রেফতার করার জন্য চাপ দিয়েছিল। পাক রেঞ্জার বা সিন্ধ পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে মন্তব্য না করা হলেও, পুলিশ প্রধানের সঙ্গে এই দুর্ব্যবহারের কারণে সিন্ধ পুলিশের কর্তা ও কর্মীরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ বলে জানা গিয়েছে। বেশ কয়েকজন অনুপস্থিতির ছুটির আবেদন করেছেন।

সবমিলিয়ে পরিস্থিতি দারুণ উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। তবে কামার বাজওয়া এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় পুলিশের ক্ষোভ কিছুটা হলেও প্রশমিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলি ইমরান খান সরকারেকে সেনার হাতের পুতুল বলে কটাক্ষ করছেন দীর্ঘদিন ধরে। যদি সত্যিই সিন্ধ প্রদেশের পুলিশ প্রধান-এর অপহরণ-এর ঘটনা সত্যি হয়ে থাকে, চাপ দিয়ে সফদরকে গ্রেফতার করানোর ঘটনা সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে পাকিস্তানে তা আরও একবার পাকিস্তানে সেনার ক্ষমতা কব্জা করার ইঙ্গিত।