এক দশকেরও বেশি আগে আক্রান্ত হয়েছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলফের পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী হানা ক্রিকেট মাঠেআশপাশের পাহাড় থেকে মাঠ লক্ষ্য করে ছুটে এল গুলিহুড়োহুড়ি পড়ে যায় ক্রিকেটার, দর্শক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে

ফের পাকিস্তানে ক্রিকেট মাঠে হানা দিল সন্ত্রাসবাদ। মাঠ লক্ষ্য করে ছুটে এল ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেন ক্রিকেটার, সাংবাদিক, দর্শকরা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কারোর হতাহত হওয়ার খবর না পাওয়া গেলেও, এই ঘটনায় ফের একবার, পাকিস্তানে আদৌ ক্রিকেট খেলার মতো উপযুক্ত পরিবেশ আছে কি না, তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাত ডিভিশনে। জানা গিয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ওড়কজাই জেলার উপরের দিকে ইসমাইলজাই তহসিলের দারদার মামাজাই এলাকায় 'আমন ক্রিকেট টুর্নামেন্ট' নামে এক স্থানীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ফাইনাল ছিল শুক্রবার। স্থানীয় খেলা হলেও জনপ্রিয় দুটি দল মুখোমুখি হওয়ায় এই খেলা উপলক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক দর্শক জড়ো হয়েছিলেন। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধি ও বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীও এদিন মাঠে উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে ম্যাচ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই কাছের পার্বত্য অঞ্চল থেকে খেলার মাঠ লক্ষ্য করে নির্বিচার গুলি চালাতে শুরু করেছিল সন্ত্রাসবাদীরা। মাঠে উপস্থিত খেলোয়াড়, দর্শক এবং সাংবাদিকদের মধ্যে রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থল প্রত্যেকেই পালাতে পেরেছেন বলে জানা গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ভন্ডুল হয়ে যায় আমন কাপের ফাইনাল।

ওড়কজাই জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকায় সন্ত্রাসবাদীদের উপস্থিতি সম্পর্কে আগেই খবর পাওয়া গিয়েছিল। এদিনের ঘটনার পর ওড়কজাই স্কাউটস এবং ফ্রন্টিয়ার কর্পস - পুলিশের দুই বাহিনী এখন সন্ত্রাসবাদী ও অন্যান্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করেছে। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীই যেখানে সন্ত্রাসবাদীদের সুরক্ষা দেয়, সেখানে এই অভিযান যে শুধুই নাম-কা-ওয়াস্তে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের টিম বাস লাহোর স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর পথে সন্ত্রাসবাদী হামলার মুখে পড়েছিল। তারপর থেকে এক দশক পাকিস্তান ঘরের মাঠে কোনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুয়োগ পায়নি। প্রাক্তন ক্রিকেটার ইমরান খান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কথা দিয়েছিলেন পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনবেন। সম্প্রতি পাকিস্তানে টেস্ট খেলা শুরুও হয়েছিল। কিন্তু, ফের ক্রিকেট মাঠে এই ধরণের ঘটনা পাকিস্তানের ক্রিকেট প্রেমীদের সেই আশায় জল ঢেলে দিল।