লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ে ধারনাকে আরও কিছুটা স্পষ্ট করল আদালত। মঙ্গলবার এক মামলার শুনানি দিতে গিয়ে আদালত যে বয়ান দিয়েছে তা লিভ-ইন সম্পর্ককে আরও আইনি জোর দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্রেমিক ও প্রেমিকা একসঙ্গে দুই দিন ও দুই রাত্রি বসবাস করলে তা লিভ-ইন সম্পর্ক বলেই ধরা হবে। এক মামলায় এক তরুণ তার প্রেমিকার হেফাজত পাওয়া নিয়ে আদালতে আবেদন করেছিল। তারই শুনানিতে এই বক্তব্য দেয় হাইকোর্ট। 

আরও পড়ুন- ৩০ বছর ধরে বউ-এর বান্ধবীদের 'প্যান্টি' চুরি, স্বামীর কীর্তি ফাঁসে অসুস্থ স্ত্রী

পঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টের এই মামলাকে ঘিরে এখন হইচই পড়ে গিয়েছে। কারণ, লিভ-ইন সম্পর্কের আইনি বৈধতা নিয়ে অতিতে বহু জটিল সমস্যা তৈরি হয়েছে। দেখা গিয়েছে দুই-তিন রাত্রি একসঙ্গে বসবাস করেছে প্রেমিক-প্রেমিকা, পরবর্তীতে কোনও বিষয়ে মনোমালিন্য হয়ে দুজনেই বিচ্ছেদের পথে হেঁটেছেন। এবার হয়তো প্রেমিক বা প্রেমিকা লিভ-ইন সম্পর্কের আধারে এই নিয়ে কোনও আইনি সহায়তা চাইছেন। কিন্তু, দুই থেকে তিন দিনের সেই একসঙ্গে রাত্রি যাপনে বহুক্ষেত্রে লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট ধারনা তৈরি করতে পারেনি। ফলে অনেক সময় আইনি জোর হারিয়ে ফেলেছে এমন কিছু মামলা। এক্ষেত্রে পঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্ট এদিন লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ে যে অবস্থান ব্যাখ্যা করল  তা অনেক ক্ষেত্রেই সহায়ক হয়ে উঠতে পারে। 

আরও পড়ুন-জেলের মধ্যে বন্দি যুবকের সঙ্গে সঙ্গম মহিলা কারারক্ষীর, পরিণামে হতে হল গ্রেফতার

পঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ একটি মামলায় এক তরুণকে তাঁর প্রেমিকাকে জোর করে আটকে রাখার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। সেইসঙ্গে ওই তরুণকে ১ লক্ষ টাকা জরিমান করা হয় এবং আদালত সেই অর্থ প্রেমিকাকে দিতে নির্দেশ দেয়। এরপর ওই তরুণ হাইকোর্টের ডাবল বেঞ্চে এই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করে। তরুণ তার আবেদনে প্রেমিকার হেফাজত দাবি করে এবং সে দাবি করে যে তারা লিভ-ইন সম্পর্কে ছিল। এই অবস্থায় জোর করে তার কাছ থেকে তার প্রেমিকাকে তুলে নিয়ে বাপের বাড়ির লোকজন। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ অবশ্য দু'দিনের একসঙ্গে বসবাসকে লিভ-ইন সম্পর্ক বলে মানতে অস্বীকার করেছিল। মঙ্গলবার হাইকোর্টের ডাবল বেঞ্চ এই অবস্থছানের বিরুদ্ধেই রায় দিয়েছে। প্রেমিক-প্রেমিকা একসঙ্গে দু'দিন বসবাস করলেই তা লিভ-ইন সম্পর্ক বলে গণ্য হবে বলে জানিয়ে দেয়। এমনকী ওই তরুণকে যে ১ লক্ষ  টাকার জরিমানা করা হয়েছিল তাও খারিজ করে দেয় ডাবল বেঞ্চ। তবে, তরুণের যে মূল আর্জি ছিল প্রেমিকার হেফাজত পাওয়া নিয়ে, সে বিষয় আদালত খারিজ করে দিয়েছে। কারণ, ওই তরুণের বয়স সবে ২০। ভারতীয় দণ্ডবিধি মেনে ছেলেদের বিবাহযোগ্য বয়স ২১। তাই হাইকোর্টের ডাবল বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে ২১-এ পড়লেই তবেই ওই তরুণ প্রেমিকার হেফাজত দাবি করতে পারেন অথবা বিবাহের কথা ভাবতে পারেন। যদি ততদিন পর্যন্ত প্রেমিকাও একইরকম সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী হয় তবেই তরুণ পদক্ষেপ নিতে পারবে। 

আরও পড়ুন-মেদবহুল পুরুষরাই উদ্দাম যৌনতায় এগিয়ে, সমীক্ষায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য