Bhandeshwari Lakshmi Temple: তারাপীঠ মানেই মা তারার মহাশ্মশান। কিন্তু তারাপীঠ থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরেই রয়েছে ১৫০০ বছরের পুরনো এক অলৌকিক মা লক্ষ্মীর মন্দির। যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রামায়ণের যোগ। তারাপীঠে গেলে এই মন্দির দর্শন না করলে যাত্রা অসম্পূর্ণ।
Bhandeshwari Lakshmi Temple: বীরভূম মানেই তারাপীঠ। সারা বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত মা তারার টানে ছুটে আসেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, তারাপীঠের কোলাহল থেকে একটু দূরেই, জঙ্গল ঘেরা এক প্রাচীন গ্রামে লুকিয়ে রয়েছে বাংলার এক অজানা ইতিহাস? সেখানেই রয়েছে প্রায় ১৫০০ বছরের পুরনো মা লক্ষ্মীর এক অলৌকিক মূর্তি, যার সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে রামায়ণের।
আমরা কথা বলছি বীরভূমের সুরুল বা সাঁইথিয়ার কাছে অবস্থিত ভাণ্ডীরবন বা লক্ষ্মীপুরের লক্ষ্মী মন্দিরের কথা। স্থানীয়দের কাছে এটি ভান্ডেশ্বরী লক্ষ্মী মন্দির নামেও পরিচিত। তারাপীঠ থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১৮-২০ কিলোমিটার।
কী আছে এই মন্দিরে?
এই মন্দিরে কোনও নতুন তৈরি মূর্তি নেই। এখানে যে কষ্টি পাথরের লক্ষ্মী মূর্তিটি পূজিত হয়, প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে তা গুপ্ত যুগের, প্রায় ১৫০০ বছরের পুরনো। কালো পাথরের উপর মা লক্ষ্মী পদ্মের উপর বসে আছেন, চার হাত। মূর্তির কারুকার্য দেখলে আজও অবাক হতে হয়। বহু বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়েছিল এই মূর্তি। পরে গ্রামবাসীরা জমি খুঁড়তে গিয়ে উদ্ধার করেন।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, এই মূর্তিটি কোনও মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়নি, একটি বিশাল তেঁতুল গাছের নিচে খোলা আকাশের নিচেই মা পূজিত হন। স্থানীয় বিশ্বাস, মাকে মন্দিরে বন্দি করা যায় না, তিনি এই ভাণ্ডীরবনেই থাকতে পছন্দ করেন।
রামায়ণের সঙ্গে কী যোগ?
এই মন্দিরের সঙ্গে রামায়ণের যোগ নিয়েই রয়েছে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর কাহিনি। প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী, রামচন্দ্র যখন সীতাকে উদ্ধার করে অযোধ্যায় ফিরছিলেন, তখন এই বীরভূমের জঙ্গলপথ দিয়েই গিয়েছিলেন। কথিত আছে, এই স্থানেই রাম-সীতা বিশ্রাম নিয়েছিলেন এবং সীতা নিজের হাতে এই লক্ষ্মী মূর্তির পুজো করেছিলেন। কারণ লক্ষ্মীই তো সীতা।
আবার অন্য মতে, বনবাসকালে পাণ্ডবরাও এই পথে এসেছিলেন এবং এখানে লক্ষ্মী লাভের জন্য তপস্যা করেছিলেন। তাই এই জায়গার নাম হয় ভাণ্ডারবন, যেখানে ভাণ্ডার অর্থাৎ ধন-সম্পদ পূর্ণ থাকে।
কেন যাবেন?
তারাপীঠে সবাই পুজো দিতে যায়, কিন্তু যারা একটু শান্তিতে, ইতিহাসের ছোঁয়া পেতে চান, তাদের জন্য এই মন্দির আদর্শ। এখানে কোনও ভিড় নেই, পাণ্ডাদের ডাকাডাকি নেই। শুধু আছে নিস্তব্ধতা আর ১৫০০ বছরের ইতিহাস। প্রতি বৃহস্পতিবার এবং কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর দিন এখানে বিশাল মেলা বসে। বহু নিঃসন্তান দম্পতি এখানে মানত করে সন্তান লাভ করেছেন বলে জনশ্রুতি আছে।
কীভাবে যাবেন?
তারাপীঠ থেকে সাঁইথিয়া যাওয়ার রাস্তায় টোটো বা অটো ভাড়া করে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়। তারাপীঠ থেকে সময় লাগে মাত্র ৩০-৪০ মিনিট। পরেরবার তারাপীঠ গেলে এই গুপ্ত ইতিহাসটা মিস করবেন না।


