২০২৬ সালের চৈত্র ছট পুজো ২২ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ২৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এই প্রবন্ধে নহায়-খায়ে, খরনা, সন্ধ্যা ও ঊষা অর্ঘ্য সহ চার দিনের পুজোর সম্পূর্ণ সময়সূচী এবং প্রতিটি দিনের তাৎপর্য বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
হিন্দু ধর্মে সূর্যদেবের পুজোর সবচেয়ে পবিত্র ও কঠিন ব্রত হল ছট। চৈত্র মাসে যে ছট পুজো হয়, তাকে চৈতি ছট বলা হয় এবং এর বিশেষ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে। এই ব্রত শুধু বিশ্বাসের প্রতীক নয়, জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি, সন্তানের মঙ্গল এবং রোগমুক্তির জন্যও এই ব্রত পালন করা হয়। আপনিও যদি ২০২৬ সালে চৈত্র ছট করার কথা ভাবেন, তাহলে এখানে এই পুজোর সম্পূর্ণ সময়সূচী, দিনক্ষণ এবং প্রতিটি দিনের গুরুত্ব দেখে নিন।
২০২৬ সালে চৈত্র ছট কবে থেকে শুরু ও কবে শেষ হবে?
২০২৬ সালে চৈতি ছটের চার দিনের এই উৎসব ২২ মার্চ (রবিবার) থেকে শুরু হয়ে ২৫ মার্চ (বুধবার) পর্যন্ত চলবে। এই চার দিন ধরে ব্রতীরা অত্যন্ত নিয়ম ও শ্রদ্ধার সঙ্গে সূর্যদেব এবং ছটি মাইয়ার পুজো করেন।
চৈত্র ছটের প্রথম দিন: নহায়-খায়ে (২২ মার্চ ২০২৬): কীভাবে ব্রতের শুদ্ধ সূচনা করবেন?
চৈত্র ছটের শুরু হয় নহায়-খায়ে দিয়ে। এই দিন ব্রতীরা সকালে স্নান করে বাড়ি এবং পুজোর জায়গা পরিষ্কার করেন। সূর্যদেব ও কুলদেবতার পুজো করা হয়। খাবারে সাত্ত্বিক লাউ-ভাত খাওয়া হয়। এই দিনটিকে শরীর ও মনের শুদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, যা ব্রতের ভিতকে মজবুত করে।
চৈত্র ছটের দ্বিতীয় দিন: খরনা (২৩ মার্চ ২০২৬): ৩৬ ঘণ্টার কঠিন উপবাস কখন শুরু হয়?
খরনার দিনটি ছট ব্রতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। ব্রতীরা সারাদিন উপোস রাখেন এবং সন্ধ্যায় গুড়ের পায়েস ও রুটির ভোগ লাগিয়ে প্রসাদ খান। এরপরই শুরু হয় ৩৬ ঘণ্টার নির্জলা উপবাস, এই সময় জল পর্যন্ত খাওয়া হয় না।
চৈত্র ছটের তৃতীয় দিন: সন্ধ্যা অর্ঘ্য (২৪ মার্চ ২০২৬): অস্তগামী সূর্যকে কেন অর্ঘ্য দেওয়া হয়?
এই দিন ছট পুজোর সবচেয়ে আবেগঘন এবং সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়। ব্রতীরা নদী, পুকুর বা ঘাটে গিয়ে অস্তগামী সূর্যকে অর্ঘ্য দেন। কুলোতে ফল, ঠেকুয়া এবং পুজোর অন্যান্য সামগ্রী সাজিয়ে নিবেদন করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, ডুবন্ত সূর্যকে পুজো করলে জীবনের সমস্ত কষ্ট ও বাধা দূর হয়।
চৈত্র ছটের চতুর্থ দিন: ঊষা অর্ঘ্য (২৫ মার্চ ২০২৬): উদীয়মান সূর্যের পুজোর গুরুত্ব কী?
চৈত্র ছটের শেষ দিন হল ঊষা অর্ঘ্য। ভোরবেলা প্রায় ৬:২০ নাগাদ উদীয়মান সূর্যকে অর্ঘ্য দেওয়া হবে। এরপর ব্রতের পারণ অর্থাৎ উপবাস ভাঙা হয়। উদীয়মান সূর্যকে অর্ঘ্য দেওয়া নতুন জীবন, শক্তি এবং ইতিবাচক সূচনার প্রতীক বলে মনে করা হয়।
চৈত্র ছটের ধর্মীয় গুরুত্ব কী?
চৈত্র ছটকে আস্থা, শৃঙ্খলা এবং প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর উৎসব বলে মনে করা হয়। সূর্যদেবকে প্রত্যক্ষ দেবতা হিসেবে পুজো করা হয়। ছটি মাইয়াকে সন্তান ও পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধির দেবী বলে মানা হয়। এই ব্রত জীবনে ইতিবাচক শক্তি, সুস্বাস্থ্য এবং সমৃদ্ধি নিয়ে আসে বলে বিশ্বাস।


