শ্রাবণ মাসে সময়ের অভাবে ব্রত, উপোস বা জলাভিষেক করতে পারছেন না? চিন্তা নেই। শাস্ত্র মতে মন থেকে ভক্তি থাকলে মাত্র ৪টি সহজ কাজ করেই বাবা ভোলানাথের কৃপা ও বর পাওয়া সম্ভব।

শ্রাবণ মাস মানেই বাবা ভোলানাথের মাস। সোমবার উপোস, জলাভিষেক, রুদ্রাভিষেক... সব করতে মন চায়। কিন্তু অফিস, সংসার আর ব্যস্ততার চাপে অনেকেই সময় করে উঠতে পারেন না।

টেনশন করবেন না। শাস্ত্র বলছে, মন আর ভক্তি থাকলে বড় আড়ম্বর লাগে না। মাত্র ৪টি ছোট কাজ করেও আপনি শিবের কৃপা আর বরপ্রাপ্তি করতে পারেন।

*ব্যস্তদের জন্য শ্রাবণের ৪টি সহজ কাজ*:

*১. "ওঁ নমঃ শিবায়" জপ করুন*

সারাদিনের কাজের ফাঁকে মাত্র ৫ মিনিট সময় বের করুন। স্নান করে বা শুদ্ধ মনে ১০৮ বার "ওঁ নমঃ শিবায়" জপ করুন। শিব সবচেয়ে সহজে মন্ত্রেই তুষ্ট হন। জপমালা না থাকলে আঙুলে গুনেও জপ করা যায়।

*২. এক গ্লাস জল অর্পণ করুন*

মন্দিরে যাওয়ার সময় নেই? বাড়িতেই শিবলিঙ্গ বা শিবের ছবির সামনে এক গ্লাস পরিষ্কার জল রেখে দিন। মনে মনে বলুন "বাবা, এটা গ্রহণ করুন"। সাথে ২-৩টি বেলপাতা আর একটু আতপ চাল দিতে পারলে আরও ভালো। এটাই আপনার ঘরোয়া জলাভিষেক।

*৩. সোমবার সাদা জিনিস দান করুন*

শ্রাবণের সোমবারে সাধ্যমতো সাদা চাল, দুধ, দই বা সাদা কাপড় কোনো অভাবী মানুষকে দান করুন। শিব সাদা রং খুব পছন্দ করেন। মন থেকে ১০ টাকার জিনিস দান করলেও তার পুণ্য অনেক।

*৪. শিব চালিসা বা একটি শ্লোক পাঠ করুন*

রাতে ঘুমানোর আগে ২ মিনিট সময় নিয়ে শিব চালিসা পড়ুন। মুখস্থ না থাকলে মোবাইলে চালিয়ে শুন। অথবা শুধু এই শ্লোকটি বলুন -

*"কর্পূর গৌরং করুণাবতারং, সংসার সারং ভুজগেন্দ্র হারম্"*

এই একটি শ্লোকেই শিবের সম্পূর্ণ মহিমা রয়েছে।

*সবচেয়ে বড় কথা*

শিব আড়ম্বর দেখেন না, ভক্তি দেখেন। আপনি যদি সত্যিকারের মন থেকে "হর হর মহাদেব" বলেন, তিনি অবশ্যই শুনবেন। নিয়ম ভাঙার ভয় নেই। শ্রাবণের প্রতিটি দিনই শুভ। যে কোনো দিন, যে কোনো সময় এই ৪টি কাজ করলেই আপনি আশীর্বাদ পাবেন।

সোমবার সম্ভব না হলে শুক্রবারও করতে পারেন। শুক্রবার মা পার্বতীর দিন। শিব-পার্বতীর যুগল পুজোয় সংসারে সুখ-শান্তি আসে।