আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের বিনায়কী চতুর্থী ব্রত পালিত হবে। এই ব্রতটি ১৭ই জুলাই, শুক্রবার পালন করা হবে, যা অনিরুদ্ধ চতুর্থী নামেও পরিচিত। এই বিশেষ দিনে ভগবান গণেশের আশীর্বাদ লাভের জন্য নির্দিষ্ট শুভ মুহূর্তে এবং সঠিক নিয়ম মেনে পুজো করার বিধান রয়েছে।

যেকোনো শুভ কাজ শুরু করার আগে ভগবান গণেশের পুজো করা হয়। এই কারণেই তাঁকে 'প্রথম পূজ্য' বলা হয়। ধর্মগ্রন্থ অনুসারে, চতুর্থী তিথির অধিপতি হলেন স্বয়ং গণেশ। তাই প্রতি মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থীতে তাঁর আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য একটি বিশেষ ব্রত রাখা হয়, যা বিনায়কী চতুর্থী ব্রত নামে পরিচিত। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে আষাঢ় মাসের বিনায়কী চতুর্থীর ব্রত পালন করা হবে। এই বিশেষ তিথিকে অনিরুদ্ধ চতুর্থীও বলা হয়। আসুন, জেনে নেওয়া যাক এই ব্রতের সঠিক তারিখ, পুজোর মুহূর্ত এবং নিয়মকানুন।

জুলাই ২০২৬-এ বিনায়কী চতুর্থী ব্রত কবে পালন করবেন?

পঞ্জিকা অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথি শুরু হচ্ছে ১৭ জুলাই, ২০২৬, শুক্রবার সকাল ৬টা বেজে ২৭ মিনিটে। এই তিথি থাকবে পরের দিন, অর্থাৎ ১৮ জুলাই, শনিবার ভোর ৪টে বেজে ৪২ মিনিট পর্যন্ত। যেহেতু ১৭ জুলাই তারিখেই চতুর্থী তিথির সূর্যোদয় এবং চন্দ্রোদয় হবে, তাই ব্রতটি ওই দিনই পালন করা হবে। এই দিনে বেশ কয়েকটি শুভ যোগ তৈরি হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে।

১৭ জুলাই ২০২৬ বিনায়কী চতুর্থী পুজোর মুহূর্ত

আষাঢ় মাসের বিনায়কী চতুর্থীতে পুজোর সবচেয়ে ভালো সময় হল সকাল ১১টা বেজে ০৫ মিনিট থেকে দুপুর ১টা বেজে ৫০ মিনিট পর্যন্ত। অর্থাৎ, ভক্তরা পুজোর জন্য মোট ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট সময় পাবেন। এছাড়াও পুজোর জন্য আরও কিছু সময় পাওয়া যাবে। যেমন -

দুপুর ১২:৩৩ থেকে দুপুর ০২:১২ পর্যন্ত

বিকেল ০৫:৩১ থেকে সন্ধ্যা ০৭:১০ পর্যন্ত

বিনায়কী চতুর্থীর পুজো পদ্ধতি ও মন্ত্র

- ব্রতের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরুন। এরপর হাতে জল, চাল এবং ফুল নিয়ে ব্রতের সংকল্প করুন। সারাদিন নিষ্ঠার সঙ্গে উপবাস রাখুন।

- শুভ মুহূর্তে ভগবান গণেশের মূর্তি বা ছবি প্রতিষ্ঠা করুন। প্রথমে চন্দন বা কুমকুমের তিলক লাগান। তারপর ফুল অর্পণ করে ঘিয়ের প্রদীপ ও ধূপ জ্বালিয়ে পুজো শুরু করুন।

- এরপর গণেশকে দূর্বা, চাল, সিঁদুর, আতর, পৈতে, সুপারি, ফুল এবং অন্যান্য পুজোর সামগ্রী একে একে নিবেদন করুন। পুজোর সময় ভক্তিভরে 'ওঁ গাং গণপতয়ে নমঃ' মন্ত্র জপ করুন।

- পুজোর শেষে নিজের ইচ্ছেমতো মিষ্টি বা ফলের ভোগ দিন। এরপর विधि মেনে আরতি করুন। রাতে চাঁদ উঠলে তাঁকে জল অর্ঘ্য দিন এবং ফুল, চাল ও কুমকুম দিয়ে পুজো করুন।

- এই পুজোর পরেই খাবার গ্রহণ করুন। বিশ্বাস করা হয় যে, ভক্তিভরে এই ব্রত পালন করলে গণপতির আশীর্বাদ পাওয়া যায় এবং পরিবারে সুখ, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল বিরাজ করে।