- Home
- Religion
- কেন ভোর ৪ টে-র সময় রেডিও-তে বেজে ওঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’? জেনে নিন এই ঐতিহ্যের নেপথ্যের কারণ
কেন ভোর ৪ টে-র সময় রেডিও-তে বেজে ওঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’? জেনে নিন এই ঐতিহ্যের নেপথ্যের কারণ
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর সূচনা হয় মহালয়ার দিন ভোর ৪টেয় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী শোনার মাধ্যমে। ১৯৩১ সাল থেকে আকাশবাণীতে সম্প্রচারিত এই অনুষ্ঠানটি কেন নির্দিষ্ট ভোরেই বাজে, তার পিছনে রয়েছে শাস্ত্রীয় ও আধ্যাত্মিক কারণ।

বাঙালির বারো মাসে ১৩ পার্বণ হলেও সব থেকে অন্যতম দুর্গাপুজো। সারা বছর থেকে এই পাঁচটি দিনের অপেক্ষায় থাকে বাঙালি। দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন সকলে মনে নিয়ে আসে খুশির জোয়ার। উৎসবের শুরু মহালয়া দিয়ে। প্রতিটি ঘরে শোনা যায় মহিষাসুরমর্দিনী।

ভোরের অন্ধকারে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী দিয়ে সূচনা নয় মহালয়ার। এর পরে তর্পণের জন্য গঙ্গা ঘাটে ভিড় বাড়তে থাকে। এরই সঙ্গে চণ্ডীপাঠের সুরে দেবী দুর্গার আরাধনা- সব মিলিয়ে মহালয়া বাঙালির আবেগ ও ঐতিহ্যের এক অন্য মাত্রা এনে দেয়।
কিন্তু, কখনও ভেবে দেখেন যে কেন প্রতি বছর মহালয়ার দিন ভোর ৪টের সময়ই রেডিওতে বাজে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচার হয়? কেন প্রতি বছর বেছে নেওয়া হয় এই নির্দিষ্ট সময়টা?
মহালয়া মানেই ভোরের অন্ধকার কেটে দেবীপক্ষের আবাহন। আর বাঙালির ঘরে ঘরে সেই পরিচিত সুর বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী। ১৯৩১ সাল থেকে আকাশবাণীর এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান বাঙালির মহালয়া উদযাপনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
তবে কেন ভোর ৪টের সময়ই রেডিওতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচার হয়? এই প্রশ্ন থাকে অনেকের মনে। প্রসঙ্গত শাস্ত্রীয় ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসে ভোরের সময় দেবী আবাহন ও পিতৃতর্পণের বিশেষ গুরুত্ব আছে। সে কারণে এই সময় বেছে নেওয়া হয়েছিল। ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলায় চণ্ডীপাঠ শোনার অভ্যাসটি বাঙালিক কাছে চিরন্তন আবেগ ও নস্টালজিয়া হয়ে আছে। সে কারণে এখনও ভোরের সময়টা মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচারের হয়।
এদিকে হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, মহালয়া পিতৃপক্ষের শেষ দিন। এই পক্ষটি প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ, তাদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পণ করার রীতি প্রচলিত। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, মহালয়ার দিন থেকেই দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের ক্ষণগণনা শুরু হয়। এবছর ১০ অক্টোবর পালিত হচ্ছে দিনটি।

