সেঁজুতি দাস 

'বছর ঘুরে মা যে আবার এল ফিরে' এই বার্তার সঙ্গেই দুর্গা পুজোর আয়োজন শুরু করেছে বিভিন্ন পুজো কমিটিগুলি। ইতিমধ্যেই পাড়ায় পাড়ায় বাঁশ পড়ার শব্দ শুরু হয়ে গিয়েছে। আর পুজোটা যদি কলকাতার হয় তাহলে তো কোনও কথাই নেই। তার ওপর আবার থিম পুজোর দৌড়ে কলকাতা তো একেবারেই শীর্ষে। আর তার মধ্যে সেরার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্লাবগুলি। সেই মতই এবছরে আবার এক নতুন থিমে তাদের মণ্ডপ সজ্জিত করতে চলেছে বেহালা ফ্রেন্ডস। 

'সম্পর্কের বন্ধনে অন্তরের আবেদন' এই থিমেই এবারের পুজো বেহালা ফ্রেন্ডস ক্লাবের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যৌথ পরিবারের ভিত নড়বড়ে হয়েছে। শরিকি বাড়িও দেখা যায় না। ফ্ল‍্যাট কালচারে অভ‍্যস্থ হয়ে উঠছে আজকের বাঙালি। ফাস্ট লাইফের সঙ্গে যুঝতে গিয়ে সম্পর্কের বন্ধন যেমন আলগা হয়ে গেছে, তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে অনেক পেশা। প্রায় বিলুপ্ত পেশা আর সম্পর্কর মিশেলে মন্ডপ সাজাচ্ছে বেহালা ফ্রেন্ডস। 

মন্ডপের বাইরেটা তৈরি হচ্ছে পুরোনো অফিসপাড়ার অফিসের আদলে। ভেতরে তুলে ধরা হচ্ছে শরিকি বাড়ির  ছবি। এই বাড়ির দালানেই ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকবেন মা দুর্গা। ঘরে বাইরের যোগসূত্র হিসেবে থাকছে টাইপিস্ট হরিপদ।  প‍্যান্ডেলের প্রবেশ পথেই তার দেখা মিলবে। সেই সঙ্গে থাকবে বেশ কিছু টাইপ মেশিন।  মন্ডপের অন্দরমহলের দেওয়াল সাজানো হবে নবকল্লোল, উল্টোরথের মতো পুরনো পত্রিকা দিয়ে।  মাঝখানে থাকবে একটা কাঠের গুঁড়ি কেটে তৈরি এক টাইপিস্টের মূর্তি।  তার ঠিক মাথার ওপর থাকবে বিশালাকার ঝাড়বাতি। অর্ডার বানানো হচ্ছে এই বিশেষ ঝাড়বাতি।  নারকেল দড়ি, পিচবোর্ড দিয়ে মন্ডপ সাজানো হচ্ছে। মা দুর্গা এখানে সাবেকি। শিল্পী অলোককুমার পাল। চুয়ান্ন বছরের পুজোর এবারের বাজেট পনের লক্ষ টাকা।  তৃতীয়াতে সর্বসাধারণের জন‍্য মন্ডপ খুলে দেওয়া হবে। তাই ভিড় এড়াতে চাইলে এদিনই সপরিবারে দেখে নিতে পারেন বেহালা ফ্রেন্ডসের পুজো।