শরতের মেঘলা আকাশ, শিউলি ফুলের গন্ধ জানাচ্ছে মায়ের আগমনবার্তা এবছর তাদের ভাবনা 'মহালক্ষ্মীর মায়ায় ভরা, রেখ দেউলের পরম্পরা'  আবারও নতুনত্বের ছোঁয়া থাকছে বেহালা নতুন দলের মণ্ডপে  এই মন্ডপের উচ্চতা চল্লিশ ফুটের বেশি  

সেঁজুতি দাস 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। কৈলাশ থেকে ছেলেপুলে সহ বাপের বাড়ি আসছেন 'মা'। শরতের মেঘলা আকাশ, শিউলি ফুলের গন্ধ ইতিমধ্যেই জানান দিচ্ছে সে কথা। সেইমত শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর প্রস্তুতি পর্বও। কুমোড়টুলির মতো নানান জায়গায় জোড় কদমে চলছে মায়ের মূর্তি তৈরির অন্তিম পর্ব। আর এরই মধ্যে নিজেদের নতুন নতুন চিন্তাভাবনা নিয়ে প্যান্ডেলের কাজ শুরু করেছে দুর্গা পুজো কমিটিগুলি। সারা বছর ধরে অধীর আগ্রহে মানুষ অপেক্ষা করে থাকেন দুর্গা পুজোর জন্য। তার মধ্যে কলকাতার পুজো-কে ঘিরে উন্মাদনা বরাবরই তুঙ্গে থাকে। শপিং থেকে প্যান্ডেল হপিং-এর প্ল্যান শুরু হয়ে গিয়েছে এরই মধ্যে। সেই মতই এক নতুন থিমে তাদের মণ্ডপ সজ্জিত করতে চলেছে বেহালা নতুন দল। 

শহর কলকাতার মধ‍্যে জঙ্গলে ঘেরা প্রাচীন মন্দির দর্শন করতে হলে বেহালায় নতুন দলের পুজোতে আসতেই হবে। কারণ এদের এবারের থিম মহালক্ষ্মীর মায়ায় ভরা, রেখ দেউলের পরম্পরা। মন্ডপ হবে প্রাচীন রেখ দেউলের আদলে। আর মা দুর্গার মহালক্ষ্মী রূপ দেখা যাবে এখানে। তাই দশ হাতের বদলে মাযের এখানে আঠারো হাত। 

পুরুলিয়া, বাঁকুড়া দেখা মেলে এমন মন্দিরের। কয়েক হাজার বছরের এমন মন্দিরকে এবার বেহালায় তুলে আনছেন শিল্পী রণো বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়। মন্ডপের উচ্চতা চল্লিশ ফুটের বেশি। দেবীর মূর্তি তেরো চোদ্দ ফুট উঁচু। একই কাঠামোর মধ‍্যেই দেখা যাবে মা ও তাঁর চার সন্তানকে। দত্তপুকুর বনগাঁ থেকে কারিগর আনা হয়েছে। গাছ গাছলিতে ভরা প্রাচীন মন্দির। তাই দু তিন মাস আগে থেকেই মন্ডপের দুদিকে বহু গাছ লাগানো হয়েছে। সেখানে লতা গুল্ম যেমন আছে তেমনি আছে বড় গাছ। মূল মন্ডপের উল্টো দিকে থাকছে একটি শিব মন্দির। এই দুই মন্দিরের মাঝে রাখা থাকবে হেরমব গনেশ। পুজোর বাজেট পয়ত্রিশ লক্ষ টাকা। মহালয়ার মধ্যেই মন্ডপের সমস্ত কাজ শেষ করে ফেলতে চান ক্লা ব কর্তারা। আম জনতার জন্য রেখ দেউলের দরজা খুলে দিতে চান তৃতীয়াতেই।