সিএবি-র ইতিহাসে তৈরি হল নতুন নজির। বেশ কিছুদিন ধরে সিএবি সভাপতি পদে নিজের দায়িত্ব পালন করছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ২০১৫ থেকে তিনি সিএবি সচিবের পদে ছিলেন। কিন্তু ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক বিসিসিআই সভাপতি হওয়ার পর থেকে সিএবি সবাপতির পদটি খালিই পরে ছিল বেশ কয়েক মাস। অবশেষে সরকারিভাবে সেই অচলাবস্থার অবসান হল। সিএবি সভাপতি পদে দায়িত্ব নিলেন প্রয়াত বিসিসিআই এবং সিএবি সভাপতি জগমোহন ডালমিয়ার পুত্র অভিষেক ডালমিয়া। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে এই দায়িত্ব পেলেন অভিষেক। এর আগে কেউ এত কমবয়সে কেউ এই দায়িত্ব পাননি কেউ। কনিষ্ঠতম প্রেসিডেন্ট হিসাবে নজির তৈরি করলেন অভিষেক।

এতদিন ধরে তিনি সিএবি-র যুগ্ম সচিব পদটি সামলাতেন। সেখান থেকে তাকে নিযুক্ত করা হয় সিএবি সভাপতি হিসাবে। সিএবি সভাপতি রূপে নিজের নতুন ইনিংস শুরু করতে পেরে খুশি অভিষেক। দায়িত্ব নেওয়ার পর খুশির সঙ্গে সামান্য আবেগপ্রবণও হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এককালে যে পদ অলংকৃত করেছিলেন তাঁর পিতা জগমোহন ডালমিয়া এখন সেই পদে তিনি আসীন হচ্ছেন ভেবেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। জগমোহন ডালমিয়া ইডেন গার্ডেনস-কে মন্দির মনে করতেন বলে জানালেন অভিষেক। কাজের ক্ষেত্রে তার বাবার অসাধারণ ডেডিকেশনের কথাও উল্লেখ করেন সিএবি-র বর্তমান সভাপতি। সেই সঙ্গে তিনি নিজেকে প্রাক্তন সিএবি সভাপতির সঙ্গে তুলনা করতেও নারাজ। তিনি তাঁর মতো করে কাজ করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন অভিষেক। সন্ধ্যেবেলায় লন্ডনে রওনা হওয়ার আগে অভিষেককে শুভেচ্ছা জানিয়ে যান বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। অভিষেক যে ভালো কাজ করবেন সেই ব্যাপারে আশাবাদী মহারাজ। 

সিএবি-র যুগ্ম সচিব পদের দায়িত্ব পেয়েছেন সৌরভ গঙ্গোেপাধ্যায়ের দাদা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। দায়িত্ব পেয়ে আবেগপ্রবণ তিনিও। তিনি বাংলার হয়ে প্রায় ১০ বছর ব্যাট হাতে মাঠে নেমেছিলেন। এখন সেই বাংলা ক্রিকেটের হয়ে নতুন দায়িত্ব সেই স্মৃতিগুলোকে বারবার উসকে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্নেহাসিস। 

সামনেই দুটো গ্লোবাল ইভেন্ট আয়োজন করবে ভারত। ২০২১ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ ওয়ান ডে বিশ্বকাপ। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকবে তাদের কাঁধে বলে জানিয়েছেন অভিষেক। প্রথমেই ইডেনের লিজের ব্যাপারটি নিয়ে বসতে চাইছেন তারা। এরপর বাংলার মেয়েদের নিয়ে একটি ক্রিকেট লিগ করার ভাবনা রয়েছে তাদের। তাছাড়া সাম্প্রতিক কালে বাংলার ক্রিকেটার অশোক দিন্দা ও কোচিংয়ের সাথে যুক্ত রণদেব বসুর ঝামেলার পর একটি কোড অফ কন্ডাক্ট তৈরির ভাবনাও রয়েছে সিএবির। সাংবাদিক সম্মেলনে দুই যুগ্ন-সচিব, সহ-সভাপতি এবং কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে বসে অভিষেক জানান,  সবাই একভাবে একসঙ্গে কাজ করলে কোনও সমস্যা থাকবে না। ক্রিকেট দলগত খেলা। ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত সকলকেও টিমগেমে বিশ্বাসী হতে হবে বলে জানিয়েছেন অভিষেক।